আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ভাবনা এখনও মিলছে না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ঘন্টাখানেক আলোচনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ইরানের উপরে ইজরায়েল বিমান আক্রমণ করতে চায়। অন্যদিকে, আবারও সশস্ত্র আক্রমণের আগে আমেরিকা একবার যুদ্ধের কূটনৈতিক দিকটাও ভেবে দেখতে চাইছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু আলোচনায় যথেষ্ট উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি শান্তি প্রস্তাব নিয়ে যথেষ্ট সন্তুষ্ট নন। উল্টে তেহেরানের সামরিক শক্তিকে যুদ্ধের মাধ্যমে আরও দুর্বল করে তুলতে চাইছেন। পুনরায় সশস্ত্র যুদ্ধের পক্ষে তিনি আগ্রহী। কিন্তু ট্রাম্প শান্তিচুক্তিকে একবার সুযোগ দিতে চান বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যদি শান্তিচুক্তি ব্যর্থ হয় তাহলে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে তিনি পিছপা হবেন না। 

সূত্রের খবর, ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েলের এই উত্তেজনার মধ্যস্থতায় কাতার ও পাকিস্তান একটি প্রস্তাব পেশ করেছে। সেখানে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়কেই সই করতে হবে যুদ্ধবিরতির পক্ষে। তাদের সইপর্ব শেষে ৩০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব চলবে বলে জানা গিয়েছে। সেই আলোচনার মূল বিষয় হতে চলেছে হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জন্য খুলে রাখার প্রস্তাব। এছাড়াও আলোচনায় উঠবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও। কিন্তু এই প্রস্তাবে ইজরায়েল গররাজি। নেতানিয়াহুর কথায়, এভাবে আক্রমণ পিছিয়ে দেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত। আক্রমণগুলি পরিকল্পনা অনুযায়ী চালিয়ে গেলেই ভাল হত। ট্রাম্পের সমর্থনে একজন মার্কিন কর্মকর্তার কথায়, ‘প্রস্তাবের পরেই বিবির মাথা গরম হয়ে গেল।’ 

সূত্রের দাবি, আলোচনার আগে নেতানিয়াহু যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ছিলেন। বিশেষ করে যখন আগের চুক্তিগুলি বাস্তবায়িত হয়নি তখন তিনি এই আলোচনা নিয়ে আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে গিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, ইজরায়েল প্রধান আমেরিকার সঙ্গে এই বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে বিস্তৃত আলোচনা করতে চান। তাই আগামী সপ্তাহে তিনি ওয়াশিংটনে যেতে চাইছেন। 

এদিকে, ইজরায়েলের সঙ্গে মতবিরোধ হলেও মার্কিন প্রধান সমসমক্ষে তা প্রকাশ করেননি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ভীষণই ভাল। আমি যা চাইব, ইজরায়েল সেটাই করবে।’ ইরানের যুদ্ধ বিষয়ে এই দুই দেশের প্রধানের মধ্যে মতবিরোধ এই প্রথম নয়। এর আগেও তাঁদের মধ্যে নানা বিষয়ে মতবিরোধ হলেও, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবেই যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। 

এদিন সংবাদমাধ্যমকে ট্রাম্প জানান, ‘আমরা শান্তিচুক্তিতে সই করব, নাকি যুদ্ধ চালিয়ে যাব, সেটাই দেখার বিষয়।’ তিনি আরও জানান যে, শান্তিচুক্তিতে সই করা আর যুদ্ধ আগের মতোই চালিয়ে যাওয়ার ঠিক মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে আছে দুই দেশ। 

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি একটি আক্রমণকে স্থগিত রেখেছেন। তাঁর কথায়, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ উপসাগরীয় দেশগুলির অনুরোধেই নাকি তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই উপসাগরীয় দেশগুলি শান্তিচুক্তির আলোচনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটন এবং ইসলাবাদের সঙ্গে সমানে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। 

জানা গিয়েছে, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিশর মিলিতভাবে আমেরিকা-ইরানের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির প্রস্তাব পেশ করেছে। অন্তত দু’জন আরবের কর্মকর্তা এই শান্তিচুক্তি আমেরিকা ও ইরানের কাছে পেশ করেছে।