আজকাল ওয়েবডেস্ক: হানিমুন—নবদম্পতির জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়, যেখানে তারা একান্তে কাটান কিছু মুহূর্ত, উদ্যাপন করেন ভালোবাসা ও নতুন জীবনের শুরু। কিন্তু যদি সেই হানিমুনে হাজির হন বাবা-মা বা শ্বশুর-শাশুড়ি? অবাক হলেও কিছু করার নেই। এমনই এক অদ্ভুত ট্রেন্ড ঘিরে সম্প্রতি তোলপাড় হয়েছে সামাজিক মাধ্যম। বিয়ের পর নবদম্পতির সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরা—মা, বাবা, ভাই, এমনকি দাদু-ঠাকুমাও যাচ্ছেন হানিমুনে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রেডিট অ্যাপে এমনই এক গল্প শেয়ার করে একজন লিখেছেন, ‘আমার প্রতিবেশীর মা-বাবা হানিমুনে তাদের সঙ্গে গিয়েছিলেন, কারণ বিমানে ভ্রমণের সমস্ত খরচ তারাই বহন করেছিলেন। কী অদ্ভুত এক পরিবার!’ অন্য একজন শেয়ার করেছেন, ‘আমি যখন হানিমুনে গিয়েছিলাম তখন পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিলাম। তাই আমরা সমুদ্রতটে দু-তিন দিন ছিলাম। কিন্তু আমার স্বামী তার ভাইকেও সঙ্গে নিয়েছিল, কারণ তারা একসঙ্গে মাছ ধরতে চেয়েছিল’।
আরও এক চমকে দেওয়া অভিজ্ঞতায়, এক মহিলা লেখেন, ‘আমার প্রথম বিয়ে হয়েছিল লাস ভেগাসে। হোটেলে আমরা রুম বুক করেছিলাম, কিন্তু আমার শাশুড়িকে দেওয়া হয় পাশের ঘর। আমাদের ঘরের সঙ্গে শ্বাশুড়ির ঘর সংযুক্ত ছিল। শ্বাশুড়ির ঘরে সরাসরি দরজা দিয়ে আমাদের ঘরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল!’ রেডিটের এক ফোরামে আরেকজন লেখেন, ‘আমার প্রাক্তন স্বামী তার মায়ের বাড়িতেই হানিমুন করতে চেয়েছিল। তার পরিবারের বাড়ি আমার বাড়ি থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে ছিল। আমি ভেবেছিলাম কোথাও ঘুরতে যাব, কিন্তু না, সে আমাকে নিয়ে গিয়েছিল তার মায়ের কাছে বসে থাকতে’। অন্য একজন জানান, ‘আমার প্রতিবেশীরা হানিমুনে তাদের দাদু-ঠাকুমাকেও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল!’ এইসব গল্প এখন ইন্টারনেটে ভাইরাল।
কেউ কেউ বলছেন, ‘হানিমুন মানে তো একান্তে সময় কাটানো। এটা আবার পারিবারিক ভ্রমণ হয়ে গেল কীভাবে’! আবার কেউ বলছেন, ‘যেহেতু পরিবারের লোকজন খরচ করছেন, সেই অধিকারবোধ থেকেই নবদম্পতির পিছন পিছন ছুটছেন তারা’। এই নতুন ‘ফ্যামিলি হানিমুন’ ট্রেন্ড নিয়ে যেমন বিস্ময়, তেমনি হাস্যরসও ছড়িয়ে পড়েছে নেট দুনিয়ায়। তবে যাই হোক, হানিমুনে যদি মাছ ধরা কিংবা শাশুড়ির সঙ্গে চা খাওয়া হয়—তাহলে রোম্যান্স একটু কমবে বইকি! উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ভারতের উত্তরপ্রদেশে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে নবদম্পতির হানিমুনে যাওয়ার পর। উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জের বাসিন্দা নবদম্পতি মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন গোয়ায়। কিন্তু, সেখানে গিয়েই তাঁদের জীবনে নয়া মোড়। শেষপর্যন্ত মধুচন্দ্রিমা শিকেয় তুলে ওই বিবাহিত বধূ কোনওমতে বাড়ি ফিরেছেন। অভিযোগ দায়ের করেছেন থানায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি হিন্দু রীতি মেনে চিকিৎসক রত্নেশ গুপ্তর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মহিলা। জীবনের বড় আকাঙ্খা নিয়ে গিয়েছিলেন শ্বশুরবাড়ি।
কিন্তু, সময়মত এগোতেই ছন্দপতন। শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নববধূ যৌতুক-সম্পর্কিত হয়রানি এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। সমস্যা সমাধানের জন্য শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সমস্যার মিমাংসা করে আসেন নববধূর মা-বাবা। তা সত্ত্বেও, নির্যাতন অব্যহত ছিল বলে অভিযোগ। এরপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি, বধূ তাঁর স্বামীর সঙ্গে গোয়ায় যান মধুচন্দ্রিমার জন্য। এরপরই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। নববধূর অভিযোগ যে, তাঁর স্বামী মধ্যরাতে হোটের ঘরে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছিলেন, এমনকি তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুনেরও চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর, নির্যাতিতার বাবা-মা তখনই মেয়েকে ফেরাতে একটি বিমানের ব্যবস্থা করেন। গত ২২শে ফেব্রুয়ারি তাঁদের মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ফিরে এসে, নির্যাতিতা নববধূ সদর কোতোয়ালি থানায় স্বামী এবং তাঁর পরিবারের আরও সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
