আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে একটি অ্যানিমে-ধাঁচের নাটকীয় ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই  নিহত হওয়ার ঘটনাকে কল্পনাপ্রসূত অ্যানিমেশন আকারে দেখানো হয়েছে।

ভিডিওটির শুরুতেই দেখা যায়, “Khamenei is back” শিরোনাম দিয়ে দৃশ্য শুরু হয়। সেখানে খামেনেইকে একটি ছোট মেয়েকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়, ঠিক তখনই আকাশে United States ও Israel–এর যুদ্ধবিমান ইরানের দিকে এগিয়ে আসে। পরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেই ভবন ধ্বংস হয়ে যায় যেখানে খামেনেই ছিলেন এবং তিনি নিহত হন বলে ভিডিওতে দেখানো হয়েছে।

পরবর্তী দৃশ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই খবর পাচ্ছেন। একই সময়ে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে তাঁর বাবার আংটি তুলে নিয়ে নিজের হাতে পরছেন—যা ক্ষমতা গ্রহণের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে।ভিডিওর পরবর্তী অংশে দেখা যায়, ইরান থেকে অসংখ্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে এবং সেগুলি ট্রাম্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তাকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখানো হয়েছে।

এই ভিডিওটি এমন সময় ভাইরাল হয়েছে যখন পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের নাম দেয় Operation Epic Fury, আর ইজরায়েল এটিকে Lion’s Roar নামে উল্লেখ করে।

?ref_src=twsrc%5Etfw">March 12, 2026

এই হামলার পর পাল্টা আঘাত হানে ইরান। তাদের হামলা ছড়িয়ে পড়ে অঞ্চলের একাধিক দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপর, যার মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইরাক, কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান এবং আজারবাইজান।

এদিকে বুধবার (১১ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ তিনি দেননি। ট্রাম্প বলেন, “আমরা জিতেছি। অনেক সময় খুব তাড়াতাড়ি জয়ের কথা বলা যায় না, কিন্তু আমরা জিতেছি—প্রথম ঘণ্টাতেই যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছিল।”

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা  মোজতবা খামেনেই  যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো একটি বিবৃতি দেন। তিনি তাঁর বাবাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চায়, তবে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী আপাতত বন্ধই থাকবে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ভাইরাল হওয়া অ্যানিমে ভিডিওটি যুদ্ধের ঘটনাকে নাটকীয়ভাবে তুলে ধরলেও এটি বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি নাকি শুধুই কল্পনাপ্রসূত প্রচার—তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে।