আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের অন্যতম বড় লক্ষ্য—ইরানে শাসন পরিবর্তন—এখনও পূরণ হয়নি। সংঘাতের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই নিহত হলেও তেহরান বরং সংঘাতের পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান কার্যত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিশ্ব তেল পরিবহন ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে বড়সড় বিমান হামলা চালিয়েছে। পারস্য উপসাগরের এই দ্বীপটিকে অনেকেই ‘অরফান পার্ল’ বা ‘অসহায় মুক্তো’ বলে উল্লেখ করেন। কারণ এটি ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান লাইফলাইন—দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপ থেকেই হয়।
খার্গ দ্বীপটি আকারে খুব ছোট—মাত্র প্রায় পাঁচ মাইল দীর্ঘ। এটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আয়তনে ভারতের লাক্ষাদ্পীপ দ্বীপপুঞ্জের সম্মিলিত আকারের চেয়েও ছোট। কিন্তু গুরুত্বের দিক থেকে এটি ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু।
১৯৭৯ সালে ইরান এই দ্বীপটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমানে এখান থেকে বছরে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি করা হয়। এখান থেকে প্রধানত এশিয়ার বাজারে—বিশেষ করে ভারত এবং চীনে তেল পাঠানো হয়।
২০২৪ সালে তেল বিক্রি করে ইরান প্রায় ৭৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এই আয়ের বড় অংশই আসে খার্গ দ্বীপ থেকে রপ্তানি হওয়া তেল থেকে। এই অর্থ শুধু সরকারি খরচই নয়, ইরানের সামরিক প্রকল্প—বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি—চালাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই কারণেই বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হারানো ইরানের জন্য বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক ধাক্কা হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে ইরানের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
তবে মূল ভূখণ্ডে সরাসরি হামলার ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ ইরান আয়তনে ইরাকের প্রায় চার গুণ বড় এবং দেশটির ভূখণ্ড পাহাড়ি ও দুর্গম। ফলে সেখানে স্থলযুদ্ধ চালানো অত্যন্ত কঠিন ও প্রাণঘাতী হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে খার্গ দ্বীপকে অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ সম্ভাব্য আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন। যদি এমন অভিযান হয়, তবে তা হতে পারে বহু পর্যায়ের যৌথ সামরিক অভিযান। এতে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে এবং বিশেষ বাহিনী এতে অংশ নিতে পারে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই জাপান থেকে তিনটি যুদ্ধজাহাজ ও প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনা ইরানের দিকে পাঠাচ্ছে। ফলে অনেক বিশ্লেষকের মতে, খার্গ দ্বীপকে ঘিরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শিগগিরই শুরু হতে পারে।
