আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম ও দক্ষিণ এশিয়ার পাশাপাশি এবার উত্তেজনা ছড়াল পূর্ব এশিয়াতেও। উত্তর কোরিয়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। শনিবার এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোঁড়া হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। 

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুসারে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোঁড়া হয় রাজধানী পিয়ংইয়ং-এর কাছাকাছি একটি এলাকা থেকে। দুপুর প্রায় ১.২০ মিনিট নাগাদ ক্ষেপনাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দেশের পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের দিকে ছোঁড়া হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক কমান্ড। 

এই ঘটনার দিকে নজর রাখছিল জাপানও। জাপানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র হয়ত এখনও সমুদ্রে পড়ে থাকতে পারে। তবে সেটি জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই তথ্য জানিয়েছে জাপানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে। 

এই সপ্তাহেই আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এই মহড়া প্রতি বছরই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। দুই দেশের দাবি, এই মহড়া সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। এর লক্ষ্য উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হুমকির বিরুদ্ধে এই দুই দেশের সামরিক শক্তি কতটা প্রস্তুত তা যাচাই করে নেওয়া। এই প্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বেশ তাৎপর্যবাহী।

শনিবার শত শত মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয় সেনা, এই দুই দেশের যৌথ মহড়ায় অংশ নেন। তারা নদী পার হওয়ার সামরিক মহড়াও করেন। এই মহড়ায় ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যুদ্ধযান ব্যবহার করা হয়। দুই দেশের যৌথ বাহিনীর কমান্ডার এই মহড়া তদারকি করেন। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮,৫০০ আমেরিকান সেনা মোতায়েন রয়েছে। 

উত্তর কোরিয়া বরাবরই এই ধরনের মহড়ার বিরোধিতা করে এসেছে। তাদের দাবি, এই মহড়া আসলে যুদ্ধের প্রস্তুতি। তারা একে “আক্রমণের মহড়া” বলে উল্লেখ করে। কিন্তু, বাকি দুই দেশের দাবি, এই মহড়া আসলে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক মহড়া। 

এর মধ্যেই কূটনৈতিক যোগাযোগের কথাও উঠছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম-মিন-সেয়ক, ওয়াশিংটনে যান। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে সংলাপ শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। 

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা  কিম-জং-উনের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসতে আগ্রহী বলেও জানা গিয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে পূর্ব এশিয়ায়।  বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধে টেনে আনতে পারে উত্তর কোরিয়াকেও।