আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক তলানীতে। সীমান্ত নিয়ে দুই দেশে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি। আফগান তালিবান বাহিনী পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে রাওয়ালপিন্ডির নুর খান বিমানঘাঁটি।

কিন্তু নুর ঘাঁটিই কেন? রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত নুর খান এয়ারবেস, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অন্যতম কৌশলগত কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার। এই ঘাঁটি শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও ভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। 

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চারদিনব্যাপী সংঘাতে ভারতীয় বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে এই ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। সেই ক্ষয়ক্ষতির পর মেরামতির কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতেই নতুন করে ড্রোন হামলা নুর খান এয়ারবেসের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। 

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল, রাওয়ালপিন্ডির নুর খান এয়ারবেস, কোয়েটায় ১২তম ডিভিশন সদরদপ্তর, খাইবার পাখতুনখোয়ার মহমান্দ অঞ্চলের খোয়াজাই ক্যাম্প-সহ অন্যান্য সামরিক কমান্ড সেন্টার। 

তালিবান কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে, পূর্ব আফগানিস্তানের জালালাবাদ শহরে একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে এবং পাইলটকে জীবিত অবস্থায় আটক করা হয়েছে। সংবাদসংস্থা এজেন্স ফ্রান্স প্রেস (এএফপি)-জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা পাইলটকে প্যারাশুটে করে নামার পরে আটক হতে দেখেছেন। 

এই ঘটনার আগেরদিন পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং দক্ষিণের কান্দাহার শহরে বিমান হামলা চালায়। কান্দাহার, তালিবান সুপ্রিম লিডার হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তান সরকারের এক মুখপাত্র দাবি করেন, ১৩৩ জন তালিবান যোদ্ধা নিহত হন সেই আক্রমণে। এছাড়া ২০০-র বেশি আহত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক পোস্ট ধ্বংস বা দখল করার দাবিও তিনি করেন। 

সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খ্বাজা আসিফ, এই পরিস্থিতিকে খোলা যুদ্ধ বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তালিবান পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের পাল্টা আক্রমণে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। 

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র কার্যকলাপ, এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক অভিযান নিয়ে বহুদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ছোট ছোট সংঘর্ষ ঘটলেও এবার প্রথমবারের মতো বড় আকারের ড্রোন হামলা ও বিমান অভিযানের দাবি পরিস্থিতিকে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে রূপ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।