আজকাল ওয়েবডেস্ক: আফগানিস্তানের একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার জ্বালানি ডিপোতে পাকিস্তান বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তালিবান সরকার। শুক্রবার তালিবানের মুখপাত্র এই অভিযোগ করেন। জ্বালানি ডিপোটি আফগানিস্তানের কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের তথ্য সূত্র অনুসারে তালিবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের এই আক্রমণে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এই আক্রমণটি, এই দুই দেশের আক্রমণগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলার একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
তালিবান মুখপত্র, জাবিউল্লা মুজাহিদের কথায়, “পাকিস্তান কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ক্যাম এয়ার-এর জ্বালানি ডিপোতে বোমা ফেলেছে। সংস্থাটি বেসামরিক বিমান সংস্থাগুলিকে জ্বালানি সরবরাহ করে। পাশাপাশি জ্বালানি দেয় ইউনাইটেড নেশন এর বিমানেও।”
মুজাহিদের দাবি, পাকিস্তান শুধু কান্দাহারেই হামলা চালায়নি। আরও কয়েকটি জায়গায় বোমা দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। রাজধানী কাবুলেও আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু জায়গায় সাধারণ মানুষের বসবাসের ভিটে-বাড়িও লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তালিবান।
তালিবান স্পষ্ট জানিয়েছে, এই আক্রমণের জবাব দেওয়া হবে। তাদের দাবি পাকিস্তানের এই আগ্রাসন কোনওভাবেই সহ্য করা হবে না। অন্য দিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি। তাদের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত মাসেই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তখন পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভিতরে বিমান আক্রমণ করে। পাকিস্তানের কথায়, তারা জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছে। কিন্তু আফগানিস্তান সেই আক্রমণকে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে। সেই আক্রমণের পরে তারা পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।
দুই দেশের সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৬০০ কিলোমিটার। সেই সীমান্তে বেশ কয়েক দিন ধরে সংঘর্ষ চলছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি।
এই সংঘর্ষের মূল কারণ জঙ্গি সমস্যা। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। আফগানিস্তানের সেই জঙ্গিরা পাকিস্তানে আক্রমণ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করে পাকিস্তান। কিন্তু, তালিবান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, জঙ্গি সমস্যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা আরও জানায়, জঙ্গিদের সঙ্গে আফগানিস্তানের কোনও যোগসূত্র নেই।
চীন এই উত্তেজনা কমানোর জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। দুই দেশকেই সংঘর্ষ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে চীন।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, আফগানিস্তান নিয়ে পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে আলোচনা চলছে। কিন্তু, সেই আলোচনার ফলাফল কী, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
তবে নতুন করে বোমা হামলার অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতে, দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যেও উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
