আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ফের পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, পাশাপাশি কান্দাহার, পাকতিয়া  ও সীমান্তঘেঁষা নানগারহার-সহ একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানের দাবি, এই হামলার লক্ষ্য ছিল আফগান সামরিক ঘাঁটি ও তালিবানদের অস্ত্রভাণ্ডার। তবে তালিবান শাসিত প্রশাসনের অভিযোগ, হামলায় বহু সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পাকিস্তান জানিয়েছে, এই সামরিক পদক্ষেপ তাদের ‘গজব লিল-হক’ (Righteous Fury) নামের অভিযানের অংশ। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড থেকে লাগাতার সীমান্তপারের গুলি চালানো হচ্ছিল এবং তালিবান সরকার জঙ্গি সংগঠনগুলিকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদপত্র Dawn জানায়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চিত্রাল, খাইবার, কুররম, মোহমন্দ-সহ একাধিক এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতেই সীমান্তপারের গুলি চালানো হয়।

শুক্রবার সকালে তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের ভেতরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ফয়সালাবাদ ও নওশেরার কাছে পাকিস্তানি সামরিক শিবির লক্ষ্য করে এই আঘাত হানা হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী **আততাউল্লাহ তারার জানান, অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নওশেরায় তালিবান-ছোড়া একাধিক ছোট ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সোয়াবিতে অন্তত একজন সাধারণ নাগরিক আহত হন বলে খবর।

&t=21s

দু’পক্ষই একে অপরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ২২৮ জন তালিবান যোদ্ধা নিহত ও ৩০০-র বেশি আহত। পাকিস্তানের দু’জন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যুর কথাও স্বীকার করা হয়েছে। অন্যদিকে তালিবান দাবি করেছে, তাদের হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে, যদিও তাদেরও আটজন যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন।

শুক্রবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খেয়াজা আসিফ পরিস্থিতিকে “ওপেন ওয়ার” বলে বর্ণনা করেন। তিনি ফের অভিযোগ তোলেন যে তালিবান সরকার পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গি সংগঠন  তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং আইএসআইএস-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলিকে আশ্রয় দিচ্ছে। তালিবান অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তরেখা, যা ‘ডুরান্ড লাইন’ নামে পরিচিত, বহু জায়গায় দুর্গম ও অরক্ষিত। অতীতেও এই সীমান্ত ঘিরে সংঘর্ষ হয়েছে। গত বছর অক্টোবরেও দু’দেশের মধ্যে তীব্র লড়াই চলে, পরে তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়।

এই নতুন সংঘাত ঘিরে আঞ্চলিক শক্তিগুলির উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান, সৌদি আরব, রাশিয়া  ও চিন  অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুটেরেস উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার অনুরোধ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, তাদের অভ্যন্তরে জঙ্গি তৎপরতায় ভারতের মদত রয়েছে এবং তালিবান সরকার পরোক্ষে সেই কৌশলের অংশ। ভারত ও তালিবান— দু’পক্ষই সেই অভিযোগ খারিজ করেছে।

সীমান্তের দুই পারে এখনো টানটান উত্তেজনা। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে কূটনৈতিক মহলের আশা, আন্তর্জাতিক চাপ ও মধ্যস্থতার প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত সংঘাত প্রশমনের পথ খুলে দিতে পারে।