আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি পাকিস্তানে বাল্যবিবাহ বিরোধী বিল ২০২৫ পাশ হয়েছে এবং গার্হস্থ্য সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০২৬ পাশ হয়েছে। এর পরেই সেই আইন মানতে রাজি হলেন না সে দেশের শীর্ষস্থানীয় ধর্মগুরু তথা জামিয়ত উলেমা-ই-ইসলামের প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান। এর ফলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। 

সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় ফজলুর রহমান সংশোধনীগুলি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ঘোষণা করেন যে, তিনি পাকিস্তানের পারিবারিক আইনে আনা সংশোধনীগুলি মেনে নেন না। একটি উস্কানিমূলক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, সংশোধনীর প্রতিবাদ হিসেবে তিনি ‘প্রকাশ্যে আইনগুলি লঙ্ঘন’ করবেন। আইনগুলি কার্যকর করার জন্য রাষ্ট্রের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

প্রস্তাবিত বাল্যবিবাহ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করতে গিয়ে ফজলুর রহমান এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়েন যে, তিনি ১০, ১২, ১৫ এবং ১৬ বছর বয়সী শিশু-সহ অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়েতে সহযোগিতা করবেন এবং ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকবেন বলে ঘোষণা করেন। তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মৌলানা উভয় আইনকে ‘অসাংবিধানিক ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, এগুলি ইসলামিক নীতির পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন যে, বিল দু’টি পর্যালোচনার জন্য ইসলামিক আদর্শ পরিষদে পাঠানো হোক। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি যে বিষয়গুলিকে ধর্মীয় বলে বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর ওপর আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের নেই।

শীর্ষ সরকারি সূত্রগুলি উগ্রপন্থী বক্তব্যের মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তাদের মতে, প্রভাবশালী ধর্মগুরুদের প্রকাশ্যে শিশু সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহিংসতা আইন অমান্য করার সুযোগ দেওয়াটা রাজনৈতিক সদিচ্ছার এক বিপজ্জনক পতনের ইঙ্গিত এবং শাসনব্যবস্থার জন্যও হুমকি।

সংসদে শর্মীলা ফারুকির পেশ করা পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০২৬ পাস হওয়ার সময় বিতর্কের সূত্রপাত। জামিয়াত-সহ বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানালেও আইনটি পাস হয়ে যায়। এই আইনে পরিবারের অভ্যন্তরে শারীরিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, স্ত্রীকে তালাকের বা দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দেওয়া, তার সম্মতি ছাড়াই তাঁকে অন্যদের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা, অথবা স্ত্রী, সন্তান বা পরিবারের সদস্যদের মানসিক যন্ত্রণা দেওয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই আইনে লিঙ্গ নির্বিশেষে ১৮ বছরের কম বয়সী যে কাউকে শিশু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের রাজধানী অঞ্চলে বিবাহের জন্য সর্বনিম্ন আইনি বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।