আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ইরানের হুমকির পাল্টা দিল ইজরায়েল। হামলা চালালে তারাও যে পিছপা হবে না তা জানিয়ে দিয়েছে ইজরায়েল। বলা হয়েছে এমন জবাব দেওয়া হবে যা ইরান আগে দেখেনি।


ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, রবিবারই কোনও দেশের নাম না করে তেহরানের ‘শত্রুদের’ সাবধান করে দিয়েছিল ইরান। বলা হয়েছিল, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়োতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উপরে যে কোনও ধরনের আক্রমণ মানে তা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। তারই পাল্টা দিলেন নেতানিয়াহু।


গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে খামেনেই–বিরোধী গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সেই বিক্ষোভ এখন কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই গণবিক্ষোভে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মদত রয়েছে বলে শুরু থেকে অভিযোগ তুলে আসছে ইরান। তা নিয়ে দু’দেশকেই সাম্প্রতিক সময়ে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরান। সোমবার নেতানিয়াহু জানান, ইরানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে ইজরায়েল। সঙ্গে জুড়ে দেন, ‘‌যদি ইরান ভুল করেও আমাদের উপর হামলা করে, তবে আমরা এমন শক্তি দিয়ে তাদের জবাব দেব যা তারা আগে কখনও দেখেনি।’‌


এদিকে, রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, তাদের দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশার নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলির শত্রুতা ও একাধিক নিষেধাজ্ঞা। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘দেশের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি যে কোনও অবমাননা আসলে সমগ্র জাতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের সমান।’


তবে এটাও ঘটনা, ইরানের এই গণবিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জুগিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের জন্য সাহায্য পাঠানোরও বার্তা দেন তিনি। ইরানের শাসক বদলের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সম্প্রতি মন্তব্য করে বসেছেন ট্রাম্প। এই সবের মধ্যেই ইরানের আশঙ্কা, হামলা হতে পারে তাদের উপরে। আবার এটাও ঘটনা, গত বছর ইরান–ইজরায়েল সংঘর্ষের সময় নেতানিয়াহুদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। মার্কিনিরা বোমা ফেলেছিল ইরানের পরমাণুকেন্দ্রগুলিতেও। 


ট্রাম্পের আরও দাবি ছিল, আমেরিকার ধারাবাহিক চাপের ফলেই ইরানে কয়েকশো বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড রদ করেছে খামেনেই প্রশাসন। এর মধ্যেই ইরানের সরকারের দাবি, দেশে শান্তি ফিরছে। ধীরে ধীরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। ইন্টারনেট ব্যবস্থাও স্বাভাবিকের পথে।