আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার সকালে ইজরায়েলের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে হত্যার বদলা নিতেই এই ‘ক্লাস্টার বোমা’ হামলা। লারিজানির সঙ্গে তাঁর ছেলে এবং দেশের উপ-নিরাপত্তা প্রধানও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ আগেই জানিয়েছিলেন, রাতের অন্ধকারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে লারিজানি এবং ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর কম্যান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে লারিজানির মৃত্যু ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সপাট মন্তব্য, ‘‘এক অশুভ গোষ্ঠীর নেতাদের দাপট শেষ হল।’’

অন্যদিকে মঙ্গলবার রাতেই হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিতে ৫০০০ পাউন্ডের ভারী বোমা আছড়ে ফেলেছে আমেরিকা। পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে ইরানের বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র চত্বরেও। সেখানে একটি প্রজেক্টাইল আছড়ে পড়ার খবর মিলেছে।

এহেন যুদ্ধের আবহে স্বস্তি দিল দুই ভারতীয় জাহাজ। রান্নার গ্যাস বোঝাই ‘নন্দাদেবী’ ও ‘শিবালিক’ গুজরাটের বন্দরে নিরাপদে পৌঁছেছে। এই দুই জাহাজে যে পরিমাণ গ্যাস এসেছে, তা ভারতের এক দিনের চাহিদার সমান। তবে হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে রয়েছেন আরও ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক। তাঁদের ফেরাতে তৎপর দিল্লি।

প্রসঙ্গত, যুদ্ধ শুরু হতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের জেরে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেও বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতিবাদে ইস্তফা দিয়েছেন সে দেশের সন্ত্রাসদমন শাখার প্রধান জো কেন্ট। তাঁর অভিযোগ, ইজরায়েলি লবির চাপে অকারণ এই যুদ্ধ শুরু করেছে ট্রাম্প সরকার।

এরই মধ্যে বুধবার ভোরে লেবাননের রাজধানী বেইরুটেও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। কোনও সতর্কতা ছাড়াই সাধারণ মানুষের বাসস্থানে বোমা পড়ার খবর মিলেছে।