আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনেই আদৌ বেঁচে আছেন? জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখনই ইরানের একাধিক নেতা ও সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, মোজতবা খামেনেই জীবিত আছেন। তবে তিনি আহত হয়েছেন। রাশিয়ার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের প্রাক্তন শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে, নাতনি, জামাই এবং মোজতবার স্ত্রী। সেই হামলাতেই মোজতবা খামেনেই আহত হন। তাঁর পায়ে চোট লাগে। এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সেই হামলায় খামেনেই এবং ইরানের কয়েক জন সামরিক কর্তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন খামেনেই-পুত্র মোজতবা।
ওই সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও জানা গেছে, সেদিনের হামলায় খামেনেইর জামাইয়ের মাথা দু'টুকরো হয়ে গিয়েছিল। ইরানের সেনাপ্রধানের গোটা শরীর কয়েক টুকরো মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা বেজে ৩২ মিনিটে তেহরানে খামেনেইর অফিসে হামলা করেছিল ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হামলার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই সেই অফিস থেকে কাজের জন্য বেরিয়েছিলেন মোজতবা।
যদিও খামেনেইর অফিস চত্বরেই ছিলেন মোজতবা। হামলায় তাঁর পা আহত হয়। অন্যদিকে খামেনেইর আরেক ছেলে মোস্তাফা খামেনেই এবং তাঁর স্ত্রী এই হামলায় বেঁচে যান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি জানিয়েছেন, ইরানের নয়া শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনেইর বর্তমানে কোনও সমস্যাই নেই। তিনি এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'সদ্য জাতির উদ্দেশে বক্তব্য পেশ করেছেন নয়া শীর্ষ নেতা। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিজের দায়িত্ব তিনি পালন করবেন।'
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আদৌ মোজতবা বেঁচে আছেন কিনা জানিনা। আমার মনে হয়, উনি বেঁচে আছেন, তবে গুরুতর জখম হয়েছেন।'
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনেইকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। আর এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই নানা চর্চা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে বিমান হামলায় মোজতবার বাবা ইরানের প্রাক্তন শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছিলেন, সেই একই হামলায় মোজতবাও সম্ভবত গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে ইজরায়েল ও মার্কিন যৌথ হামলায় গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পর ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা আলি খামেনেই বর্তমানে কোমায় আচ্ছন্ন এবং তিনি তাঁর অন্তত একটি পা হারিয়েছেন।
ওই সংবাদমাধ্যমটি যেসব সূত্র উদ্ধৃত করেছে, তারা দাবি করেছে যে খামেনেই “অন্তত একটি পা হারিয়েছেন এবং তাঁর পাকস্থলী কিংবা যকৃতেও (লিভার) গুরুতর আঘাত লেগেছে।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেহরানের ‘সিনা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল’-এ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মোজতবার চিকিৎসা চলছে।
ইরানি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, ওই হামলায় মোজতবা খামেনেই আহত হয়েছিলেন, তবে তিনি এখন নিরাপদেই আছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তেহরানের সাইপ্রাসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন যে, ওই হামলায় মোজতবা আহত হয়েছিলেন, একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, ওই ভয়াবহ বোমাবর্ষণ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় মোজতবা অত্যন্ত ভাগ্যবান।
