সাধারণত যুদ্ধ বা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেই সোনার দাম লাফিয়ে ওঠে। কারণ, অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। কিন্তু ইরান–আমেরিকা সংঘাতের মাঝেও এবার সেই চেনা ছবি দেখা যাচ্ছে না। সোনা বাড়ার বদলে এক ধরনের “রেঞ্জ-বাউন্ড” বা সীমাবদ্ধ ওঠানামায় আটকে রয়েছে।
2
10
প্রথমত, মার্কিন ডলারের শক্তি। যুদ্ধের সময় শুধু সোনা নয়, ডলারও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা তুলনামূলকভাবে বেশি দামী হয়ে যাচ্ছে, ফলে চাহিদা কমছে।
3
10
দ্বিতীয়ত, উচ্চ সুদের হার। সোনা নিজে কোনও সুদ দেয় না। কিন্তু যখন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার বেশি রাখে বা কমানোর সম্ভাবনা কমে যায়, তখন বিনিয়োগকারীরা বন্ড বা ডিপোজিটের মতো সুদযুক্ত সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে সোনার আকর্ষণ কমে যায়।
4
10
তৃতীয়ত, মুদ্রাস্ফীতি ও তেলের দাম। ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াচ্ছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাতে দেরি করছে। এই সুদের পরিবেশ সোনার জন্য নেতিবাচক।
5
10
চতুর্থত, লিকুইডিটির চাপ। বাজারে অস্থিরতা বাড়লে অনেক বিনিয়োগকারী নগদ অর্থ জোগাড় করতে সোনাও বিক্রি করেন। ফলে সেফ-হেভেন চাহিদা থাকলেও দাম বাড়ে না।
6
10
এই সব কারণ মিলিয়ে এখন সোনা এক ধরনের টানাপোড়েনে—একদিকে যুদ্ধজনিত চাহিদা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বাস্তবতা।
7
10
তাহলে আপনার জন্য এর অর্থ কী? প্রথমত, সোনা এখনও দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। বড় বড় বিনিয়োগ ব্যাঙ্কগুলোও মনে করছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দাম আবার বাড়তে পারে।
8
10
দ্বিতীয়ত, স্বল্পমেয়াদে সোনায় দ্রুত লাভের আশা না করাই ভালো। বাজার এখন সুদের হার ও ডলারের গতিপথের উপর বেশি নির্ভরশীল।
9
10
তৃতীয়ত, বিনিয়োগে ভারসাম্য রাখা জরুরি। শুধু সোনা নয় ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, বা ইকুইটির মতো বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
10
10
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ থাকলেও বাজার এখন আগের মতো সরল নয়। সোনা এখনও নিরাপদ, কিন্তু তার দামের চালক এখন শুধু যুদ্ধ নয়—বরং সুদ, ডলার এবং বিশ্ব অর্থনীতির জটিল সমীকরণ।