আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিকট-মৃত্যু অভিজ্ঞতা মানব ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় ঘটনা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে অদ্ভুত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন—যেমন শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন অনুভূতি, উজ্জ্বল আলো দেখা, মৃত আত্মীয় বা অজানা সত্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ, শান্তি অনুভব করা, ডাক্তারদের বা সার্জারি টেবিলের দৃশ্য বাইরে থেকে দেখা ইত্যাদি। যদিও আজকের আধুনিক চিকিৎসা ও বিজ্ঞান অনেক দূর এগিয়েছে, তবুও এই অভিজ্ঞতাগুলোর পূর্ণ ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।


অনেকে একই ধরনের অভিজ্ঞতা জানান—যেমন শরীর থেকে বের হয়ে নিজেকে দেখতে পাওয়া, কোনো সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়ে উজ্জ্বল আলোর দিকে যাওয়া, হঠাৎ শান্তি বা মুক্তির অনুভূতি, অথবা এমন কোনও কণ্ঠস্বর শোনা যা বলে—“সময় হয়নি, ফিরে যাও।” মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরতে পারা মানুষের মুখে এই গল্পগুলো প্রায় একই রকম, অঞ্চল বা ধর্ম নির্বিশেষে। এখানেই জন্ম নেয় রহস্যের মূল।


বিজ্ঞান কী বলে?
বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে গবেষণা করছেন এবং কিছু সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কেউ বলেন এটি মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবের কারণে সৃষ্টি হওয়া হ্যালুসিনেশন, কেউ বলেন এটি ডোপামিন ও এন্ডোরফিনের নিঃসরণে তৈরি হওয়া এক ধরণের “রক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া।” আবার কেউ মনে করেন চরম মানসিক চাপ ও ভয় মানুষের মস্তিষ্কে বিকৃত দৃশ্য তৈরি করতে পারে।


কিন্তু সব ব্যাখ্যা সবার ক্ষেত্রে মেলে না। উদাহরণস্বরূপ, কিছু ব্যক্তি অপারেশন থিয়েটারে ক্লিনিক্যালি “মৃত” অবস্থায় ছিলেন—তাদের হার্ট বন্ধ ছিল, মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ দেখা যাচ্ছিল না—তবুও পরে তারা এমন কিছু বর্ণনা করেন যা চিকিৎসকরাও বাস্তব হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। এই জায়গায় বিজ্ঞান থেমে যায় এবং প্রশ্ন থেকে যায়—চেতনা কি শুধুই মস্তিষ্কের উৎপাদন, নাকি এর বাইরে কিছু আছে?


আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ব্যাখ্যা
অনেক ধর্ম ও আধ্যাত্মিক চর্চায় “আত্মার অস্তিত্ব” বা “পরজীবন অভিজ্ঞতার ঝলক” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। কেউ বলেন এটি আত্মার শরীর ত্যাগ করে অন্য জগতে প্রবেশের ইঙ্গিত, আবার কেউ মনে করেন এটি মানুষকে জীবনের অর্থ বোঝার সুযোগ দেয়। এখান থেকে ফেরা অনেকেই জানান—তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে, তারা জীবনের প্রতি আরও কৃতজ্ঞ হয়েছেন এবং মৃত্যুভয় কমেছে।


বিজ্ঞান যতই এগোক, এটি এখনও মানবচেতনার এক রহস্যের দরজা। এটি কি কেবল মস্তিষ্কের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া, নাকি সত্যিই মৃত্যুর দরজার ওপারে কিছু আছে? এই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। তাই নিকট-মৃত্যু অভিজ্ঞতা ঠিক একটি কথার মতো—বিজ্ঞান থেমে যায় সেখানে, যেখানে রহস্য শুরু হয়।