আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরশোলা সাধারণত মানুষের কাছে বিরক্তিকর ও নোংরা প্রাণী হিসেবে পরিচিত। তবে জীববিজ্ঞান ও আচরণবিজ্ঞানে এরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার বিশেষ বিষয়, কারণ এটিকে খুব টেকসই ও অভিযোজনক্ষম প্রাণী বলা হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে—চাপের মধ্যে পড়লে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরণ এবং পছন্দ বদলে যায়। অর্থাৎ পরিবেশগত স্ট্রেস বা ভয়-ভীতির পরিস্থিতিতে তাদের আচরণ স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে আলাদা হয়ে ওঠে।


স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এদের আচরণ বেশ পূর্বাভাসযোগ্য। উদাহরণস্বরূপ, তারা অন্ধকার ও আর্দ্র জায়গা পছন্দ করে, খাবারের উৎস শনাক্ত করে সেইদিকে এগিয়ে যায় এবং বিপদ দেখলে লুকিয়ে পড়ে। এই আচরণগুলো প্রধানত প্রবৃত্তিনির্ভর এবং বেঁচে থাকতে সহায়তা করে।


গবেষণা বলছে—যখন এরা চাপ অনুভব করে, তখন তাদের সিদ্ধান্ত হঠাৎ পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি আলো, শব্দ, কম্পন, শিকারীর আক্রমণ বা রাসায়নিক উত্তেজক দেওয়া হয়, তখন তারা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত দৌড়ায়, নতুন দিক বেছে নেয়, কখনও উজ্জ্বল আলোয় ঢুকে পড়ে অথবা খাবার পছন্দ পরিবর্তন করে। এই আচরণ দেখায় যে স্ট্রেস পরিস্থিতিতে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও এলোমেলো এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।


গবেষকদের মতে, এই আচরণের পেছনে কাজ করে স্নায়ুতন্ত্র—যা বিপদ থেকে দ্রুত পালানোর সংকেত দেয়। স্ট্রেসের সময় তারা আগের প্যাটার্ন বা শেখা আচরণ অনুসরণ না করে, বরং “জীবন বাঁচানোর দ্রুত কৌশল” বেছে নেয়। 


এই আচরণ শুধু পোকামাকড় গবেষণার জন্য নয়, বরং বৃহত্তর স্নায়ুবিজ্ঞান ও আচরণবিজ্ঞানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি দেখায়—চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরণ কেবল মানুষেরই সমস্যা নয়, ছোট প্রাণীদের মধ্যেও এটি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের স্ট্রেস ডিসিশন-মেকিং ও আরশোলার প্রতিক্রিয়ার মধ্যে মিলও খুঁজে পাওয়া যায়। তাই বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাকে স্ট্রেস, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বেঁচে থাকার কৌশল নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার একটি অংশ হিসেবে দেখছেন।


প্রতিদিন আমাদের বাড়ির রান্নাঘর বা নর্দমায় যে আরশোলা দেখা যায়, তার আচরণ আসলে বিজ্ঞানীদের জন্যও অতি জটিল ও রহস্যময়। চাপের মধ্যে তাদের আচরণ বদলানোর ক্ষমতা দেখায়—প্রকৃতি ছোট প্রাণীকেও বেঁচে থাকার কৌশল শিখিয়েছে।