আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত-মার্কিন ভেস্তে যাওয়া বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকট, ক্রমশ তা সামনে আসছে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি আটকানোর নেপথ্যে নাকি আছেন হোয়াইট হাউজের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুধু তাই নয়, মাঝেমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং নাকি এই চুক্তির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এমনই দাবি করলেন মার্কিন সেনেটর। তাঁর সেই বিস্ফোরক বক্তব্যের অডিও ফাঁস হয়েছে। যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে দুই দেশেই।

মার্কিন সেনেটর টেড ক্রুজের ফাঁস হওয়া অডিও উদ্ধৃত করে সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দাবি করেছে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি আটকে দেওয়ার নেপথ্যে আসল 'খলনায়ক'রা হলেন- নাভারো, ভ্যান্স এবং ট্রাম্প। অ্যাক্সিওসের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সেনেটর ক্রুজ দলের কিছু অর্থদাতার সঙ্গে ফোনালাপ করছিলেন। সেই কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আলোচনায় টেড ক্রুজ হোয়াইট হাউজের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দিকে আঙুল তোলেন বাণিজ্য চুক্তি ইস্যুতে। একইসঙ্গে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বিলম্বিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকেও দায়ী করেন তিনি।

ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং অনুসারে, টেক্সাসের রিপাবলিকান সেনেটর টেড ক্রুজের বলেন, তিনি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে লড়াই করছেন। তখন একজন অর্থদাতা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, মার্কিন প্রশাসনে কারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছে? জবাবে নাভারো, জেডি ভ্যানস এবং ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেছিলেন ক্রুজ। 

উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্পের উপদেষ্টা নাভারো এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বেশ কয়েকবার ভারতবিরোধী বক্তব্য পেশ করেছেন। রাশিয়ার তেল কেনার কথা উল্লেখ করে ভারতের উপর কঠোর শুল্কও আরোপ করেন ট্রাম্প।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, ক্রুজ আরও বলেছেন, তিনি এবং বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সেনেটর গত বছরের এপ্রিলে চেষ্টা করেছিলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর যাতে ট্রাম্প শুল্ক আরোপ না করেন। ক্রুজ নাকি ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে এই আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির জেরে দেশের বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়েয়ে যেতে পারে। এতে আমেরিকানদের অনেক সমস্যা হতে পারে। এর প্রভাব ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপর পড়তে পারে। এতে রিপাবলিকান পার্টি বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হতে পারে। তবে ট্রাম্প এই সব কোনও কথাতেই কর্ণপাত করেননি।