আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২০ সালের ২৪ মার্চ। এই দিনটা অনেকেই এখনও ভুলতে পারেননি। সেদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারা দেশে হঠাৎ করে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেন। তার পরের পরিস্থিতি সকলের জানা। কিন্তু ছ' বছর পর, ফের দেশের আতঙ্ক, লকডাউনের। কিন্তু কারণ কী? কেন দেশ জুড়ে আবার ফিরে আসছে 'লকডাউন'এর মতো শব্দবন্ধ?
এর মূল কারণ যদিও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। সংঘর্ষ আবহে ব্যাহত হচ্ছে তেল-এলপিজি সরবরাহ। বড় বিপত্তি সেখানেই। দেশে ইতিমধ্যে গ্যাস সঙ্কট নিয়ে তোলপাড়। এই পরিস্থিতিতে, লকডাউন শব্দটি ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যের পর, জল্পনা আরও তীব্র হয়। বৃহস্পতিবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। এসবের মাঝেই, শুক্রবার দেশের প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন। তাতেই আরও জোরাল হচ্ছে 'এনার্জি লকডাউন' নিয়ে জল্পনা।
কী এই এনার্জি লকডাউন?
'এনার্জি লকডাউন'এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথাটি ব্যাপক ব্যবহৃত হলেও, এটি কোনও সরকারি পরিভাষা নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরাই এই শব্দটি তৈরি করেছেন চলমান পরিস্থিতি বর্ণনা করার জন্য। এর অর্থ বোঝানো হচ্ছে, চলমান পরিস্থিতিতে, সমাজ, সরকার যখন জ্বালানি সঙ্কটের মাঝে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের কথা ভেবে, একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
তীব্র জ্বালানি সঙ্কট এবং তেল ও গ্যাসের দামের আকস্মিক বৃদ্ধির কারণে সমাজকে হয়তো তাদের জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহারের পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারগুলোকে বিধিনিষেধ ঘোষণা করার সুপারিশ করেছে। একাধিক দেশে এই নিয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হচ্ছে বলেও খবর সূত্রের। আইইএ যে সুপারিশগুলি করেছিল পরিস্থিতি বিচারে, সেগুলি হল-
১. যেখানে সম্ভব, বাড়ি থেকে কাজ।
২. মহাসড়কের গতিসীমা কমপক্ষে ১০ কিমি/ঘণ্টা কমানো উচিৎ।
৩. গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
৪. বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন দিনে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য রাস্তা ব্যবহারের সুযোগ পরিবর্তন।
৫. গাড়ি শেয়ারিং বাড়ানো এবং দক্ষ ড্রাইভিং পদ্ধতি গ্রহণ করা।
৬. বাণিজ্যিক যানবাহন এবং পণ্য সরবরাহের জন্য দক্ষ ড্রাইভিং নিশ্চিত করা।
৭. এলপিজি-র ব্যবহার নিয়ে নির্দেশনা।
৮. যেখানে বিকল্প ব্যবস্থা আছে, সেখানে বিমান ভ্রমণ এড়িয়ে চলা।
৯. যেখানে সম্ভব, রান্নার জন্য অন্যান্য আধুনিক সমাধান ব্যবহার।
যদিও ভারত সরকার জ্বালানি ঘাটতি এবং সেই কারণে এনার্জি লকডাউনের দিকে হাঁটার প্রয়োজন রয়েছে কিনা, তা নিয়ে এখনও কিছু জানায়নি।















