আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় জারি সংঘাত। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে এখনও রাজনৈতিক এবং সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে। হরমুজ প্রণালীকে নিয়েও দুই দেশের চাপানউতর চলছে। তারই মধ্যে ইরান এ বার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল। হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে 'টোল' বা মাশুল আদায় করবে ইরান। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ইরানের তরফে এমন ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম তেল পরিবহণকারী পথ হরমুজে এই নয়া ব্যবস্থা চালু নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

 

আন্তর্জাতিক এবং সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন থেকে হরমুজ পারাপারকারী জাহাজগুলিকে ইরান সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি বা 'পারমিট' নিতে হবে। লাগবে 'ট্রানজিট অথরাইজেশন'। জাহাজ মালিকদের 'ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন'-ও জমা দিতে হবে। নথিতে উল্লেখ করতে হবে জাহাজের মালিকানা, রুট-সহ একাধিক তথ্য। একইসঙ্গে ওই জাহাজগুলিকে 'টোল' বা মাশুল জমা দিতে হবে। যা গ্রহণ করা হবে ইরান-এর নিজস্ব মুদ্রা 'রিয়াল'-এর মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে 'টোল'-এর পরিমাণ পণ্যবাহী জাহাজের উপর নির্ভর করে সর্বাধিক ১০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে শুধু জাহজ নয়, সমুদ্রের নীচ দিয়ে কোনও সাবমেরিন কেবল বা ইন্টারনেট লাইনের জন্যও ইরান 'টোল' আদায় করবে বলে জানিয়েছে। গোটা প্রক্রিয়ার পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে ইরানে 'পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি' নামক এক সংস্থা।

এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য, সমস্ত দেশ ব্যবহারের অনুমতি পাবে না। ইরান ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, আমেরিকা বা ইজরায়েল অথবা তাদের মিত্র দেশের জাহাজগুলি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি নাও পেতে পারে। তবে ভারত ও পাকিস্তান ইতিমধ্যেই তেহরানের সঙ্গে আলোচনা সেরে ফেলেছে। ফলে এই দেশগুলি নিজেদের পতাকাবাহী জাহাজ বিশেষ অনুমতি নিয়ে হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের প্রয়োজনীয় খনিজ তেল এবং এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইরান এই ‘ছাড়’ দিতে রাজি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মত, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কার্যত হরমুজ প্রণালীর উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করতে চাইছে ইরান। ইরানের এই নতুন পারমিট এবং 'টোল' ব্যবস্থা শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল। যে হেতু বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই সমুদ্রপথের উপরেই নির্ভরশীল। ফলে এখানে কোনও ধরনের বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব পড়ে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ এপ্রিল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি শুরু হয়। তার পর থেকে সরাসরি সংঘাত দেখা যায়নি সে ভাবে। বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি জানিয়েছে, হরমুজ় প্রণালীর সংলগ্ন ইরানি সামরিক ঘাঁটি বানিয়েছে। সরাসরি আমেরিকার উপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল ইরানের। তাই আত্মরক্ষার্থেই হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। অন্য দিকে, ইরানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের প্রতিহত করতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরানও।