আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রশ্ন বহু দশক ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে। সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও নির্মম আকার ধারণ করেছে, বিশেষত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়াচ্ছেন, তাদের ওপর দমন-পীড়ন চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রতিবাদ, নারীর অধিকার, রাজনৈতিক সংস্কার বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—যে কারণেই হোক, বিরোধিতা দেখালেই অনেক ইরানিকে গুরুতর শাস্তি, অপমান ও অমানবিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।


কারাগারের ভিতরে অমানবিক আচরণ
বন্দিদের জোর করে কাপড় খুলিয়ে নগ্ন করে রাখা, শীতল কক্ষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা, শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানির অভিযোগ বহুবার উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে—এটি শুধুই শারীরিক অপমানের জন্য নয়, মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ারও কৌশল, যাতে কারাবন্দিরা ভয়, লজ্জা ও লাঞ্ছনার মধ্যে নীরব হয়ে যায়।


একাধিক প্রাক্তন বন্দি মিডিয়াকে জানিয়েছেন—তাদের চোখ বাঁধা অবস্থায় বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো, এবং অনেক সময় তারা জানতেনই না কোন অপরাধে আটক রয়েছেন। এমনকি আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ, পরিবারের খোঁজ, হাসপাতালের সেবা কিছুই তার পেতেন না। 


অজানা ইনজেকশন ও ওষুধ
অনেক প্রাক্তন বন্দির বর্ণনায় উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ একটি দিক—অজানা ওষুধ বা ইনজেকশন প্রয়োগ। তাদের শরীরে এমনভাবে ইনজেকশন দেওয়া হতো যে তারা বুঝতেই পারতেন না কি পদার্থ প্রবেশ করেছে। কেউ কেউ দীর্ঘদিন মাথা ঘোরা, স্নায়বিক সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত, স্মৃতিবিভ্রাট ও শারীরিক দুর্বলতার অভিযোগ করেছেন। কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এসব ওষুধের উদ্দেশ্য ছিল বন্দিদের আচরণ পরিবর্তন, জিজ্ঞাসাবাদে নমনীয় করা অথবা স্থায়ীভাবে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া।


নারী ও ছাত্রদের ওপর বিশেষ নজরদারি
মাহসা আমিনি হত্যার পর দেশজুড়ে নারী অধিকার ও বাধ্যতামূলক হিজাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন ছাত্রছাত্রী ও তরুণ নারীরা দমনের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।

 বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রীদের আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, বহিষ্কার ও নজরদারি বাড়ানো হয়। অনেককে রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, পরিবারের লোকজনকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।


বিশ্বের প্রতিক্রিয়া ও ইরানিদের সংকল্প
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরান সরকারের এসব কর্মকাণ্ডকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। কিন্তু তেহরান দাবি করছে—এগুলো “বিদেশি ষড়যন্ত্র” রুখতে আইনগত ব্যবস্থা। তবুও ইরানের ভেতরে প্রতিরোধ থেমে নেই। নারী, ছাত্র ও তরুণ প্রজন্ম একটি স্বপ্ন দেখছে—স্বাধীনতা, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের।