আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন ঠিক সেই সময়ই এক যান্ত্রিক সমস্যার কারণে তার বিমানকে মেরিল্যান্ডের বেস অ্যান্ড্রুজে ফিরে আসতে হয়। মোট প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট আকাশে থাকার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান। তবে দাভোসে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন মিত্ররা কী বলছেন?

এমনিতেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে জোরচর্চা বিশ্ব রাজনীতিতে। ট্রাম্পের দাবি, ডেন্মার্কের সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে উত্তাল পরিস্থিতি। তবে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠরা কী বলছেন এই ইস্যুতে? ট্রাম্পের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, নাকি বিপরীতে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন গ্রিনল্যান্ডের প্রতি তার চেষ্টা একপ্রকার অব্যাহত রেখেছেন, তখন আমেরিকার ঘনিষ্ঠ কিছু মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থার অবসান ঘোষণা করেছেন। ইউরোপীয় নেতারা দাভোসে ডেনমার্কের আর্কটিক দ্বীপে একটি ঐক্যফ্রন্ট উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে বসার বর্ষপূর্তিতে, কিছুটা ভিন্নমতই পেশ করছেন তাঁরা।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের "সবচেয়ে শক্তিশালীদের আইনের কাছে নতি স্বীকার করা উচিত নয়", শুধু তাই নয়, তিনি বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের আরও প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, আমরা বর্বরতার চেয়ে আইনের শাসন পছন্দ করি।'  ট্রাম্প সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর আগের দিন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় ম্যাক্রোঁ এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের সরাসরি নাম না করেই ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন বিশ্বের ভয়াবহ পরিবর্তনের প্রতি সাড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি আবার সরাসরি 
একটি নতুন স্বাধীন ইউরোপ গড়ে তোলার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার বলেছেন যে ২৭ সদস্যের এই ব্লকটি "একটি মোড়ে" দাঁড়িয়ে আছে । 

 

উল্লেখ্য, দাভোসে ট্রাম্পের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ডও রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন ট্রাম্প নিজেই। সোমবার তিনি বলেন, “আমি দাভোসে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে সম্মত হয়েছি। গ্রিনল্যান্ড জাতীয় ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবিষয়ে আর পিছিয়ে যাওয়া যাবে না, সবাই এতে একমত!”

 

দাভোসে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন,  গ্রিনল্যান্ড মার্কিন নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি, কারণ উপকূলজুড়ে রুশ ও চীনা জাহাজ ঘোরাফেরা করছে।


তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড নেতৃত্ব এরই মধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দ্বীপটি বিক্রি করার প্রশ্নই আসে না। ইউরোপীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে ডেনিশ রাজতন্ত্রের অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান তুলে ধরে এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্পকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ৮০০ বছর ধরে ডেনিশ রাষ্ট্রের অংশ। এটি সমন্বিত দেশ, বিক্রির জন্য নয়।”