আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে গত বছর ভারতের সাথে পাকিস্তানের ক্ষণস্থায়ী সামরিক উত্তেজনা তিনি ব্যক্তিগতভাবে থামিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরের অন্যতম ‘‘বড় কূটনৈতিক সাফল্য’’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে, কারণ দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা কখনোই শুধুমাত্র বাইরের শক্তির মধ্যস্থতায় সমাধান হয় না—বরং বহুপাক্ষিক চাপ, কূটনৈতিক চ্যানেল এবং সামরিক বাস্তবতার জটিল সমন্বয়েই শান্তি স্থাপিত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ৭২ ঘণ্টার সেই উত্তেজনার সময় পরিস্থিতি ‘‘অত্যন্ত দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছিল’’ এবং ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপে যুদ্ধের সম্ভাবনা থেমে যায়। যদিও হোয়াইট হাউজ এই দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা কূটনৈতিক কথোপকথনের সুনির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করেনি, তবে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ট্রাম্প নাকি তখন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে একাধিক টেলিফোনে কথা বলেন এবং উভয় পক্ষকে ‘‘সংযম বজায় রাখার’’ আহ্বান জানান।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন দাবি নতুন নয়। এর আগেও তাকে বহুবার দক্ষিণ এশিয়ার ‘‘মধ্যস্থ কর্তৃপক্ষ’’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত-পাক উত্তেজনা, আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে তালিবানের সাথে আলোচনা, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনায়ও ট্রাম্প নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এসব মন্তব্য অনেক সময় বাস্তব কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সরলীকরণ করে এবং প্রায়শই মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যবহারের জন্যই এমন দাবি বেশি করা হয়।
ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ই আনুষ্ঠানিকভাবে কখনও স্বীকার করেনি যে তাদের উত্তেজনা থামাতে ট্রাম্প সরাসরি ভূমিকা নিয়েছিলেন। নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বরাবরই জোর দিয়ে বলেছে যে ভারত এমন দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোতে মধ্যস্থতাকারী গ্রহণ করে না। ইসলামাবাদ যদিও মধ্যস্থতার ধারণাকে অতীতে সমর্থন করেছে, তবুও তারা কখনই প্রকাশ্যে বলেনি যে সেই ঘটনার সমাধান ট্রাম্পের নেতৃত্বে হয়েছিল।
এই দাবি আবার সামনে আসায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন মূলত নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিকে সফল হিসেবে দেখাতে চাইছে। মার্কিন নির্বাচনী রাজনীতিতে ‘‘শান্তি স্থাপনকারী’’ বা ‘‘যুদ্ধ থামানোর নেতা’’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরা সবসময় একটি রাজনৈতিক সাফল্যের কৌশল। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিকভাবে জড়িত নয়, সেসব ক্ষেত্রে কূটনৈতিক কৃতিত্ব দাবি করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে থাকে।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতা অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভারত-পাক উত্তেজনা নিয়ে যে কোনও মন্তব্যই দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সেনাবাহিনীর অবস্থান, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক শক্তির সমীকরণের সাথে জুড়ে থাকে। তাই বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন দাবি বাস্তবিক ঘটনাপ্রবাহের তুলনায় অনেক বেশি রাজনৈতিক ও প্রতীকী।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন দাবি শুধু আন্তর্জাতিক মহলে নয়, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। যদিও ঘটনা হয়তো অতীতের, কিন্তু তার রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি স্পষ্ট—দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি আজও বড় শক্তিগুলোর রাজনৈতিক হিসেবের অংশ।
