আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক জে পি মর্গান প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেস ভবনে হামলার পরবর্তী রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতিতে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার একাধিক ব্যবসার ব্যাঙ্কের হিসাব বন্ধ করেছিল। এই স্বীকারোক্তি এসেছে একটি হাইপ্রোফাইল মামলার প্রেক্ষাপটে। এখানে ট্রাম্প ব্যাঙ্ক ও এর প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে ৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
ব্যাঙ্কের প্রাক্তন প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ড্যান উইলকেনিং আদালতে দাখিল করা নথিতে জানান, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প-সম্পর্কিত কিছু হিসাব বন্ধ করার নোটিশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো ব্যাঙ্কের প্রাইভেট ব্যাঙ্ক ও কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক শাখায় রাখা ছিল। এতদিন ব্যাঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাব বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেনি; তারা সাধারণ নীতির কথা বললেও নির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য প্রকাশে গোপনীয়তার যুক্তি দেখিয়ে আসত।
ট্রাম্পের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে তার হিসাব বন্ধ করা হয়েছে, যা তার ব্যবসায়িক কাজে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে। তিনি প্রথমে ফ্লোরিডার আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে ব্যাঙ্ক মামলাটি সেই আদালত থেকে ফেডারেল আদালতে স্থানান্তর এবং নিউ ইয়র্কে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
মামলার নথিতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা দাবি করেন, ব্যাঙ্ক তার ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি ‘রেপুটেশনাল ব্ল্যাকলিস্ট’ প্রয়োগ করেছে, যা ভবিষ্যতে অন্য ব্যাঙ্কেও হিসেব নিয়ে সৃষ্টি করতে পারে। ব্যাঙ্কের আইনজীবীরা পাল্টা জবাবে বলেন, অভিযোগটি অস্পষ্ট; বাদীপক্ষ ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বলতে কী বোঝাচ্ছে তা স্পষ্ট করলে তারা জবাব দেবে। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, তারা দুঃখিত যে ট্রাম্প মামলা করেছেন, তবে মামলাটির কোনও ভিত্তি নেই বলে তাদের দাবি।
এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ‘ডিব্যাঙ্কিং’—অর্থাৎ কোনও গ্রাহকের হিসাব বন্ধ করা বা ঋণসহ অন্যান্য পরিষেবা প্রদান থেকে বিরত থাকা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। রাজনীতিকদের অভিযোগ, ‘রেপুটেশনাল রিস্ক’-এর অজুহাতে তাদের আর্থিক সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর ব্যাঙ্ক নিয়ন্ত্রকদের মাধ্যমে ‘রেপুটেশনাল রিস্ক’কে পরিষেবা প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে ব্যবহার সীমিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এটি বড় কোনও ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের প্রথম মামলা নয়। তার প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের মার্চে ক্রেডিট কার্ড জায়ান্টের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগে মামলা করে; সেটিও বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ আদালত-নথি এই আইনি লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং ‘ডিব্যাঙ্কিং’ বিতর্ককে আবারও মার্কিন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
















