আজকাল ওয়েবডেস্ক: জেপি মরগান চেজ-এর লিভারেজড ফাইন্যান্স বিভাগের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর লরনা হাজদিনির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, বর্ণবাদী মন্তব্য এবং পেশাদার ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করেছেন তার এক প্রাক্তন সহকর্মী। নিউইয়র্ক কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টে গত ২৭ এপ্রিল (সোমবার) এই মামলাটি করেন 'জন ডো' ছদ্মনামধারী এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যাংকার। তার অভিযোগ, লরনা তাকে মাদক খাইয়ে 'যৌন দাস' হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং দাবি না মানলে ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে লরনা এবং ওই সহকর্মী যখন একসাথে কাজ শুরু করেন, তখন থেকেই এই নির্যাতনের সূত্রপাত। অভিযোগকারী জানান, লরনা তাকে 'ব্রাউন বয় ইন্ডিয়ান' বলে সম্বোধন করতেন এবং নিয়মিত অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দিতেন। একবার লরনা তার অফিসের ডেস্কের সামনে কলম ফেলে দিয়ে সেটি তোলার ছলে সহকর্মীর পায়ে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন এবং লিঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করেন। এমনকি তাকে মদ্যপানের আমন্ত্রণ জানান এবং না করলে ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বলেন, "মনে রেখো, আমি তোমাকে কিনে নিয়েছি (I f**king own you)।"
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি হলো ড্রাগ সংক্রান্ত। জন ডো দাবি করেছেন, যৌন হেনস্থার সময় লরনা তাকে 'রোহিপনল' (যা সাধারণত ডেট-রেপ ড্রাগ হিসেবে পরিচিত) এবং ভায়াগ্রা জাতীয় ওষুধ জোর করে খাওয়াতেন যেন তিনি লরনার যৌন চাহিদা মেটাতে পারেন। এমনকি একবার ওই সহকর্মীর অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে লরনা তার অন্তর্বাস খুলে নিজের শরীরের সাথে ওই ব্যাংকারের স্ত্রীর তুলনা করেন এবং তার স্ত্রীর এশীয় বংশোদ্ভূত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত বর্ণবাদী ও অপমানজনক মন্তব্য করেন। সহকর্মীটি কান্নাকাটি করলে লরনা তাকে বিদ্রূপ করে বলেন যে, তার এই কথা কেউ বিশ্বাস করবে না।
এদিকে লরনা হাজদিনি এবং জেপি মরগান কর্তৃপক্ষ এই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। লরনার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি এই ধরণের কোনও কাজের সাথে জড়িত নন এবং অভিযোগকারী যে জায়গার কথা উল্লেখ করেছেন, সেখানে লরনা কোনওদিন যাননি। জেপি মরগান-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালিয়েছিল কিন্তু কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাদের দাবি, অভিযোগকারী ব্যক্তি তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, লরনা হাজদিনি গত ১৫ বছর ধরে জেপি মরগানে কর্মরত এবং ওয়াল স্ট্রিটের একজন সফল মহিলা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অন্যদিকে, অভিযোগকারী ব্যক্তি বর্তমানে বেকার এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ড্যানিয়েল জে কাইজার। তিনি লরনা ও ব্যাংকের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতির আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।















