আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে আমেরিকা। শুক্রবারই পেন্টাগনের তরফে একথা জানানো হয়েছে।


প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক জোট নেটো–র অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র জার্মানি। গত কয়েক দিন ধরে ইউরোপের এই দেশের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত প্রকট হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, সমঝোতা নিয়ে ইরান দ্বারা ‘অপমানিত’ হয়ে চলেছে আমেরিকা। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে পেন্টাগন। তার পর শুক্রবার জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।


জানা গিয়েছে, জার্মানিতে নিযুক্ত পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে। এই মুহূর্তে ইউরোপের দেশটিতে ৩৫ হাজার মার্কিন সৈন্য রয়েছে। এটাই ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ।


পেন্টাগনের এক সিনিয়র আধিকারিক বলেছেন, সমগ্র ইউরোপের ব্যবহারে হতাশা থেকেই জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে সমর্থন ইউরোপের কাছ থেকে আমেরিকা আশা করেছিল, তা পাওয়া যায়নি। এতে প্রশাসন ক্ষুব্ধ, বিরক্ত। 


এটা ঘটনা, ইউরোপের সমালোচনা করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, সেখানকার দেশগুলি মার্কিন সেনার কাছ থেকে সবরকম সুযোগসুবিধা নিয়ে থাকে। কিন্তু পরিবর্তে আমেরিকার প্রয়োজনের সময়ে হাত গুটিয়ে নেয়। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালী নিয়ে যে বিতর্ক এবং অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে নেটো–র সদস্য দেশগুলির হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন ট্রাম্প। দাবি করেছিলেন, ইউরোপ থেকে নৌবাহিনী হরমুজে পাঠানো হোক। তাতে ইরানকে চাপে রাখা যাবে। কিন্তু অধিকাংশ দেশই তা করতে রাজি হয়নি। শুধু জার্মানি নয়, ইতালি এবং স্পেনের সঙ্গেও আমেরিকার এই বিষয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।