আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইউরোপের কাজের বাজারে বড় ধাক্কা দিতে চলেছে এআই। মরগ্যান স্ট্যানলির একটি রিপোর্ট সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ চাকরি খেয়ে নেবে এআই। ইউরোপের বেশিরভাগ ব্যাঙ্কে এই চাকরি হানানোর সংখ্যা বেশি হবে বলেই খবর।
রিপোর্ট থেকে বলা হয়েছে এআই যেভাবে মানুষের থেকে উন্নত কাজ এবং নির্ভুলতার পরিচয় দিয়েছে তাকে কাজে লাগাবে প্রতিটি বড় সংস্থা। সেখানে এতদিন ধরে যে কাজটি ১০ জন মিলে করত সেটি মাত্র ১ টি এআই করে দেবে। ফলে খরচের বহর অনেকটা কমবে।
যে খবর সামনে এসেছে সেখান থেকে বলা হয়েছে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয়ান ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যে এআই-কে নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তাদের সেই কাজ কতটা ফলপ্রদ হবে তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর ভবিষ্যত। প্রতি বছরই এআই বিশ্বের নানা দেশের চাকরি হারানোর একটি বড় কারণ হচ্ছে। এবার সেই কাজ গতি পাবে বলেই খবর মিলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্রেন্ডটি গোটা ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালেই অনেকে কাজ হারিয়েছেন। এবার তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে বাকিদের ওপর। মূলত ব্যাঙ্কগুলিকেই টার্গেট করে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদি প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হয় তাহলেই এবিষয়ে অনুমতি মিলবে।
তবে অনেকে মনে করছেন এআইকে দিয়ে কাজ করাতে গিয়ে অনেকক্ষেত্রেই কাজের বিশ্বাসযোগ্যতা কমবে। সেখানে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ। যদি দেশের ব্যাঙ্কগুলি এআই ব্যবহার করতে শুরু করে তাহলে সেখানে সাধারণ মানুষ সেখানে কতটা ভরসা করতে পারবেন তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিরাট দ্বন্দ্ব।
এখানে আরও একটি বিষয় হল বিভিন্ন কর্মচারীদের ইউনিয়ন। তারা এই বিষয়টি নিয়ে রুখে দাঁড়াবে। তারা এত সহজে এআই-কে লাগু হতে দেবে না। সেখানে বিষয়টি একটি বড় আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে একেবারে তাড়াহুড়ো করতে চাইছেন না কেউই। এআই কাজের গতিকে বৃদ্ধি করতে পারে কিন্তু একটি মানব মস্তিষ্ক যে হারে নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে কাজ করে সেখানে তারা পৌঁছতে পারবে না। আর এখানেই প্রতিবারে ধাক্কা খাবে এআই। এই বিষয়টিও কর্তাদের মাথায় আছে। এবার কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে সেটাই দেখার।
