আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ার উত্তেজনা নতুন করে চরমে উঠছে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নির্ধারিত পাকিস্তান সফর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সফরকে ঘিরেই বুধবার ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরান এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে সাড়া না দেওয়ায় গোটা প্রক্রিয়াই কার্যত থমকে গেছে।
খবর অনুযায়ী, ভ্যান্সের মঙ্গলবার ইসলামাবাদ পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ, তেহরান এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি তারা আলোচনায় অংশ নেবে কিনা। এই অনিশ্চয়তা শুধু কূটনৈতিক পর্যায়েই নয়, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে, সেটির মেয়াদ খুব শিগগিরই শেষ হতে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ব্যাপারে ওয়াশিংটনের আগ্রহ খুব কম, বরং আলোচনা ভেস্তে গেলে সামরিক পদক্ষেপ ফের শুরু হতে পারে।
মূল সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান যেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি ত্যাগ করে। কিন্তু তেহরানের দাবি, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা কোনও চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। এই মতপার্থক্যই আলোচনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনাও কোনও ফল দেয়নি। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার ইরান আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে “বিরোধপূর্ণ” বলে অভিযোগ তুলেছে, যা দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
এই সংকটের মধ্যে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, ইরানের অংশগ্রহণ ছাড়া এই আলোচনা কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে। ফলে পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগও এখন বড় পরীক্ষার মুখে।
বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যদি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
সব মিলিয়ে, শান্তি আলোচনা আদৌ সফল হবে কিনা, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে ইরানের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দেখে অনেকেই মনে করছেন, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিই এখন সবচেয়ে বেশি।















