আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইসলামাবাদে আমেরিকা ইরানের বৈঠক। আলোচনার ঠিক আগেই ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদী মনোভাব’ বলে তোপ দেগেছে তারা। স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও যুদ্ধের অংশ না হওয়া সত্ত্বেও আমিরশাহিকে নিশানা করা হয়েছে।
এক সংবাদমাধ্যমে আমিরশাহির বিদেশ মন্ত্রক সাঈদ বিন মুবারক আল হাজেরি বলেন, “ইরান আমাদের ওপর ২,৮০০-র বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যান্য যে কোনও দেশের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি। এটি ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা। আমরা যুদ্ধের অংশ না হওয়া সত্ত্বেও আমাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।”
হাজেরির মতে, লড়াই চলছে দুটি ভিন্ন মানসিকতার। তিনি বলেন, “আমরা তেলের টাকা শিক্ষা, পরিকাঠামো আর মানুষের কল্যাণে খরচ করেছি। কিন্তু ওরা সেই অর্থ ব্যয় করছে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আর জঙ্গি গোষ্ঠীর পেছনে। ওরা আসলে সব কিছু ধ্বংস করতে চায়। ওরা ভেবেছিল ভয় দেখিয়ে আমাদের দমানো যাবে। কিন্তু আমিরশাহির মানুষের একতা আর শক্তিকে চেনেনি ওরা।”
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে পর্যন্ত আমিরশাহিকেই সবচেয়ে বেশি হামলা সহ্য করতে হয়েছে। আল হাজেরি জানান, তাঁদের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ আক্রমণই রুখে দিয়েছে। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, “ইরান আমাদের অর্থনীতি বন্ধ করতে চেয়েছিল। অথচ এক দিনের জন্যও আমিরশাহি থেমে থাকেনি।”
আমিরশাহিতে প্রায় ৫০ লক্ষ ভারতীয়র নিরাপত্তা নিয়েও মুখ খুলেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান নিজে হাসপাতালে গিয়ে আহত ভারতীয়দের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। হাজেরির কথায়, “ভারতীয়দের সুরক্ষা আমাদের দায়িত্ব। আমরা নিয়মিত ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।”
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে আমিরশাহি। ভারতের নাম উল্লেখ করে আল হাজেরি বলেন, “বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও ২৫ শতাংশ গ্যাস এই পথ দিয়ে যায়। ভারতের মতো দেশের খাদ্য সুরক্ষা ও জ্বালানি এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। প্রধানমন্ত্রী মোদি ঠিকই বলেছেন- এই পথ নিরাপদ রাখা জরুরি। কোনও শর্ত ছাড়াই এই জলপথ খুলে দিতে হবে। এটি কোনও আলোচনার বিষয় নয়। এটা প্রাথমিক দাবি।”
ইরানের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জ-সহ সমস্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হয়েছে আমিরশাহি। বিশ্বজুড়ে তেহরানের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতেই এখন মরিয়া তারা।















