আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের নিকট আত্মীয় বিয়োগ জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের। এবার মৃত্য হল তার ভাই মহম্মদ তাহির আনোয়ারের। পাকিস্তানে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে জঙ্গি সংগঠন জইশ-এর সক্রিয় সদস্য তাহির। তবে কী করাণে এই মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়।  
তাহির আনোয়ার জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। বছরের পর বছর ধরে সে এই সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। সংগঠনেক তরফেও তাহিরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে বাহাওয়ালপুরের জামিয়া মসজিদ উসমান ওয়ালিতে তাহিরের শেষকৃত্য হয়।

বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, তাহির আনোয়ারের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত তাঁর অসুস্থতা কিংবা কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ না করায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে।

জইশ-ই-মহম্মদ কোনও প্রান্তিক বা নগণ্য সংগঠন নয়। ভারতের মাটিতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি বড় হামলার সঙ্গে এই সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল - ২০০১ সালের সংসদ ভবন হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা, ১৯ জন সেনাসদস্যের প্রাণ কেড়ে নেওয়া উরি হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলা, এই হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়েছিলেন।

পুলওয়ামা হামলার পাল্টা, ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের মধ্যে ঢুকে জইশ-এর অন্যতম ঘাঁটি বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত সংগঠনের সদর দপ্তর-সহ নানা জায়গায় হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলায় মাসুদ আজহারের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নিহত হয়েছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে, জইশ প্রথমবার পরোক্ষে তাদের এই ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে নিয়েছিল।

ওই জঙ্গি সংগঠনের একজন শীর্ষ কমান্ডার স্বীকার করেছিলেন যে, 'অপারেশন সিঁদুর'-এর আওতায় বাহাওয়ালপুরে ভারতীয় বাহিনীর চালানো হামলায় মাসুদ আজহারের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছিলেন। ২২ এপ্রিল পাহালগামে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদী হামলার (যাতে ২৬ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন) জবাব দিতেই ভারত এই হামলাটি চালিয়েছিল।

ভারতীয় বাহিনীর চালানো ওই হামলায় একাধিক জঙ্গি আস্তানা ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল। বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত জইশ-এর সদরদপ্তর - 'জামিয়া মসজিদ সুবহান আল্লাহ' ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নিহতদের তালিকায় মাসুদ আজহারের পরিবারের প্রায় ১০ জন সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাসুদের বোন, বোনের স্বামী, এক ভাইপো, এক ভাইজি এবং তাঁর বর্ধিত পরিবারের বেশ কয়েকজন শিশু। ওই হামলায় তাঁর বেশ কয়েকজন সহযোগীও নিহত হয়েছিলেন।