রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ফিনান্স কর্পোরেশন চলতি অর্থবর্ষে বিদেশি বাজার থেকে প্রায় ২৪,০০০-২৮,০০০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা করেছে। এক্সটার্নাল কমার্শিয়াল বোরোয়িং-এর মাধ্যমে এই তহবিল সংগ্রহ সাম্প্রতিক সময়ে কোনও সরকারি সংস্থার অন্যতম বৃহৎ বিদেশি ঋণ কর্মসূচি হতে চলেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও আইআরএফসি তাদের বিদেশি ঋণ পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
2
10
সংস্থার চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনোজ কুমার দুবে জানিয়েছেন, আইআরএফসি বিশেষভাবে ইয়েন-ভিত্তিক ঋণের ওপর জোর দেবে। রেলওয়ে খাতের বাইরে বড় সরকারি ও পাবলিক সেক্টর প্রকল্পে অর্থায়ন বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
3
10
এর জন্য আইআরএফসি মোট ৭০,০০০ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন পেয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করা হবে ভারতীয় রেলের বিভিন্ন প্রকল্প ছাড়াও মেট্রো রেল, নবীকরণযোগ্য শক্তি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন, গুদামজাতকরণ এবং শহুরে পরিবহণ প্রকল্পে।
4
10
দুবের কথায়, মোট বার্ষিক ঋণের প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ বিদেশি ঋণপথে সংগ্রহের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, সংস্থা ধাপে ধাপে ২০,০০০ কোটি টাকার ডিপ ডিসকাউন্ট জিরো কুপন বন্ডও ইস্যু করবে।
5
10
আইআরএফসি দাবি করেছে, সরকারের সমর্থন, শূন্য অনাদায়ী ঋণ এবং মাত্র ১৫ বেসিস পয়েন্ট পরিচালন ব্যয়ের কারণে তারা অত্যন্ত কম সুদে প্রকল্পে ঋণ দিতে সক্ষম। বর্তমানে সংস্থার গড় ঋণদানের সুদের হার ৭.৯ শতাংশ।
6
10
এর আগে আইআরএফসি রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড, কঙ্গন রেলওয়ে কর্পোরেশন লিমিটেড, রেলটেল কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া সহ একাধিক রেল সংস্থাকে অর্থায়ন করেছে। এখন তারা রেলের বাইরেও বড় সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছে।
7
10
দুবে জানান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—দুই বাজার থেকেই ধাপে ধাপে অর্থ তোলা হবে। বাজার পরিস্থিতি ও প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন আর্থিক উপকরণ ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইসিবি, গ্লোবাল মিডিয়াম টার্ম নোট, বিদেশি মুদ্রার বন্ড, মসলা বন্ড, ৫৪ইসি বন্ড, গ্রিন ও ইএসজি বন্ড, মাল্টিল্যাটারাল ঋণ এবং ডিবেঞ্চার।
8
10
আইআরএফসি-র কাছে ১.১ বিলিয়নের ইসিবি অনুমোদন ছিল, যার মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন ইতিমধ্যেই তোলা ও বিতরণ করা হয়েছে। বাকি অর্থও এবার ব্যবহার করা হবে। নতুন বিদেশি ঋণও তিন থেকে চার দফায় তোলা হতে পারে।
9
10
আইআরএফসি-র নিট মুনাফা ৭.৮ শতাংশ বেড়ে ৭,০০৯.১ কোটিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে অপারেশন থেকে আয় হয়েছে ২৭,২৮৪ কোটি। সংস্থার মোট সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৮৫ লক্ষ কোটি এবং নেট ওয়ার্থ ৫৬,৭৪৮.৭৬ কোটি।
10
10
আইআরএফসি চলতি অর্থবর্ষে ৭২,৯৪৯ কোটি মূল্যের প্রকল্প অনুমোদন করেছে এবং ৩৫,০৬৭ কোটি বিতরণ করেছে। সংস্থা আগামী কয়েক বছরে ১৫,০০০ কোটি বা তার বেশি মূল্যের অন্তত ১৫টি বড় প্রকল্পে অর্থায়নের লক্ষ্য নিয়েছে।