আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধ চলমান৷ ইজরায়েলি বিমানহানায় মৃত্যু হল ইরানের দাপুটে নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর সর্বাধিনায়ক গোলামরেজা সোলেমানি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এ ইরানের প্রশাসনিক মেরুদণ্ড কার্যত ভেঙে পড়েছে।
মঙ্গলবার ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট জানান, তাঁর ‘হিট লিস্ট’ থেকে আরও দু’টি নাম তিনি মুছে ফেলেছেন। যদিও খোদ নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে নানা জল্পনা চলছে, তবে রণংদেহি মেজাজে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন- যুদ্ধ থামবে না।
অন্যদিকে, বুধবার সকালে লারিজানি ও সোলেমানির মৃত্যুর বদলা নিতে ইজরায়েলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।
এক নজরে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা:
ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে ইরানি নেতৃত্বের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা স্পষ্ট।
২৮ ফেব্রুয়ারি প্রাণ হারিয়েছিলেন খোদ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। সঙ্গে ছিলেন সেনাপ্রধান আব্দুর রহিম মৌসাভি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদে।
৮ ও ১২ মার্চের হামলায় লেবাননের বেইরুটে নিখুঁত নিশানায় হত্যা করা হয় হিজবুল্লার একাধিক শীর্ষ কমান্ডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ আবু ধর মহম্মদিকে।
১৭ মার্চের হামলায় তেহরানে শেষ করা হয় আলি লারিজানিকে। তাঁকে ইজরায়েল বর্তমানে ইরানের অন্যতম ‘মস্তিষ্ক’ বলে মনে করত। সঙ্গে নিহত হয়েছেন বাসিজ প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি।
বুধবার তেহরানে লারিজানি ও সোলেমানির শেষকৃত্যের মাঝেই যুদ্ধের দামামা। ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামির সাফ কথা, “এই হত্যাকাণ্ডের বদলা ভয়াবহ হতে চলেছে।” ইতিমধ্যে ইরানের ছোঁড়া রকেট ও ড্রোন রুখতে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ কার্যত মার্কিন ও ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ছেয়ে গিয়েছে।
খামেনেই-পরবর্তী ইরানে লারিজানিই ছিলেন সবথেকে বড় ভরসা। তাঁর পতনের পর ইরান এখন কতটা মরণকামড় দেয়, সেটাই এখন দেখার। আপাতত শান্তি তো দূর কি বাত, যুদ্ধের লেলিহান শিখা গোটা আরব বিশ্বকে গ্রাস করতে উদ্যত।
