আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের মধ্যেই এবার কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে গোপন ঘাঁটিতে আশ্রয় নিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। ইরানের অভ্যন্তরে তাঁকে হত্যা করে শাসনব্যবস্থায় রদবদল ঘটানোর ষড়যন্ত্র চলছে বলে আশঙ্কা করছে তেহরানের একাধিক সরকারি সূত্র। ব্রিটেনের এক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খামেনেই এক এলিট নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কোনও গোপন ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন। সেই ঘাঁটির ঠিকানা জানা তো দূর অস্ত, তাঁর যে নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে সেটার অস্তিত্ব সম্পর্কেই অনেকের জানা নেই।

এই টপ-সিক্রেট এলিট ইউনিট ইরানের সেনার শীর্ষ মহলের থেকেও গোপন রাখা হয়েছে। ৮৬ বছর বয়সী খামেনেই ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের শাসক। সূত্রের দাবি, বর্তমানে তাঁকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে এবং তাঁকে ঘিরে রয়েছেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য দেহরক্ষীরা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সম্প্রতি ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ইরানের শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অনুপ্রবেশ করেছে। সে কারণেই খামেনেই-র ব্যক্তিগত ইউনিট সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এমনকি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ আধিকারিকরাও এই ইউনিট সম্পর্কে অবগত নন।

উল্লেখ্য, খামেনেই এতদিন বাঙ্কারে ছিলেন না। তবে গত ২১ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতেই তড়িঘড়ি ইরানের শীর্ষনেতাকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হত্যার আশঙ্কা থেকেই খামেনেই বর্তমানে শুধু নির্ভরযোগ্য সহচরদের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছেন। সব ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যমের আড়ালে চলে গিয়েছেন তিনি। রবিবার ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।

সেই হামলা নিয়ে মুখ খোলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আমেরিকা ও ইজরায়েলকে নিশানা করেছেন তিনি। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘শত্রুরা মারাত্মক ভুল করেছে, শাস্তি পেতে হবে’। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন হামলার বিষয়ে নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়া সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘শাস্তি অব্যাহত রয়েছে। ইহুদিবাদী শত্রুরা একটি বড় ভুল করেছে, একটি বড় অপরাধ করেছে; তাদের শাস্তি পেতে হবে এবং তাদের শাস্তি দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে’।