আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান আক্রমণ করেছিল ইজরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। তাতেই নিহত হয়েছিলেন সেদেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেই। বিষয়টি বেশ কয়েকদিন পর সামনে আসে। এরপর আয়াতুল্লার পুত্র মোজতবাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে বসান হয়েছিল। ঘটনার কয়েক মাস পরও ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইকে এখনও সমাধিস্থ করা হয়নি। নিরাপত্তা জনিত উদ্বেগ এবংব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জের কারণেই খামেনেইকে সমাধিস্থ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের কর্মকর্তারা। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

বিশাল জনসমাগমপূর্ণ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজনে বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে। সেগুলোই খতিয়ে দেখছে তেহরানের কর্তারা। বিশেষ করে ইজরায়েলি হামলার সম্ভাব্য হুমকি এবং বিশাল জনসমাবেশের সময় অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। যা ভাবাচ্ছে ইরানকে।

'ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস'-এর বেনহাম তালেবলু, নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানান যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সমাধিস্থ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শাসকগোষ্ঠী বেশ অনিচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, "সহজ কথায় বলতে গেলে, শাসকগোষ্ঠী এতটাই ভীত এবং দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, তারা কোনও ঝুঁকি নিতে সাহস পাচ্ছে না।" তিনি চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তেহরানের সামগ্রিক দুর্বলতাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন।

৮৬ বছর বয়সী খামেনেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড চলমান সংঘাতকে আরও উস্কে দেয়। তবে তাঁর মরদেহ এখনও সমাধিস্থ করা হয়নি, যা ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যের বিপরীত।

১৯৮৯ সালের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সঙ্গে বৈপরীত্য:
এই বিলম্ব নজিরবিহীন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লা রুহুল্লাহ খোমেনির জন্য আয়োজিত বিশাল রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি  সম্পূর্ণ আলাদা। সে সময় তেহরানে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হয়েছিল। কিন্তু, পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, খামেনেই-এর মৃত্যুর পর জনগণের মধ্যে সমবেত হওয়ার সেই প্রবণতা অনেকটাই অনুপস্থিত। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিমান হামলা এবং অস্থির পরিস্থিতির কারণে শোকপ্রকাশের জন্য বড় ধরনের জনসমাবেশ আয়োজনের সুযোগ কম। 

তালেবলু অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত এবং তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যেকোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বিক্ষোভ বা সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা জনসমাবেশ গড়ে ওঠার বিষয়ে সরকার হয়তো বেশ সতর্ক ও শঙ্কিত।

সমাধিস্থ করা হবে সম্ভাব্য মাশহাদে 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা খামেনেই-এর কবরস্থান হিসেবে উত্তর-পূর্ব ইরানের তাঁর নিজ শহর 'মাশহাদ'-কে সম্ভাব্য  বিবেচনা করছেন। এই শহরেই অবস্থিত অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার, এই স্থানটিতে উন্নত নিরাপত্তা পরিকাঠামোর সুবিধাও রয়েছে।

আলোচনায় থাকা পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাজারের সন্নিকটেই খামেনেইকে সমাহিত করা। সেখানে মোতায়েন থাকা বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী কবরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারবে।

যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তার মুখে বাতিল পরিকল্পনা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, গত ৪ মার্চ থেকে শুরু হতে চলা তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়। এর মূল কারণ ছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের পক্ষ থেকে চালানো ব্যাপক বিমান হামলা ও আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি।

পরবর্তীতে কর্মকর্তারা জানান যে, এই বিলম্বের আংশিক কারণ হল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় "অভূতপূর্ব জনসমাগম" হবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা ছিল। যদিও এরপর থেকে কবর দেওয়ার কোনও সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এই অনিশ্চয়তা এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত ঠুনকো অবস্থায় রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই এর মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। যা যেকোনও বড় ধরনের প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণের বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।