আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে শান্তি চুক্তির বিরোধিতায় শনিবার ইরানের বেশ কিছু শহরের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন সে দেশের কট্টরপন্থীরা। বিক্ষোভকারীদের মূল ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফের ওপর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের সরকারি আধিকারিকদের দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার কয়েক মাসের সংঘাত মেটাতে রবিবারই একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। যদিও চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে ইরানের আধিকারিকরা এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি নন।

এদিকে, টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে কথা বলার পরেই মাশহাদ শহরের বিদেশ মন্ত্রকের একটি অফিসের সামনে জড়ো হন বহু মানুষ। এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কালো চাদর পরা মহিলারা লাল ও কালো পতাকা হাতে বিদেশমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা “আপসকারী আরাঘচির মৃত্যু হোক,” “আরাঘচি লজ্জা করো, নতিস্বীকার বন্ধ করো,” এবং “দালাল আরাঘচির মৃত্যু হোক” বলে স্লোগান দেন।

অন্য দিকে, রাজধানী তেহরান-সহ দেশের আরও বেশ কিছু জায়গায় চুক্তিবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, আন্দোলনকারীরা আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার জন্য সরাসরি বিদেশমন্ত্রী আরাঘচিকে দায়ী করছেন। মাশহাদের এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমে জানান, বিক্ষোভকারীরা “আপসকামীর পদত্যাগ চাই” বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন, যা স্পষ্টতই বিদেশমন্ত্রীর উদ্দেশে বলা।

ইরানি নেতাদের দাবি- প্রস্তাবিত এই চুক্তি ইরানের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে না। ফলে হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করতে গিয়ে ইরানের প্রতিনিধিরা বড্ড বেশি নতিস্বীকার করে ফেলেছেন।

শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অবশ্য আরাঘচি বলেন, এই চুক্তি হলে ইরানের বন্দরগুলির ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ উঠে যাবে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের পাল্টা হিসেবেই আমেরিকা ওই পদক্ষেপ করেছিল। তবে একই সঙ্গে আরাঘচি জানান, “হরমুজ প্রণালী আগের মতো করে আর চালানো যাবে না।” এই জলপথটিকে ইরান বরাবরই আমেরিকার বিরুদ্ধে নিজেদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে।

এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন, রবিবারই ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও জানান, দু’পক্ষই শান্তির একটি খসড়ায় রাজি হয়েছে এবং ইসলামাবাদে একটি অনলাইন বা ই-স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।

আবার ইরানের তরফে এই সময় নিয়ে সম্মতি দেওয়া হয়নি। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চুক্তি এখনই সই হচ্ছে না। বাঘাই স্পষ্ট বলেন, “আগামীকালই এটা হচ্ছে না।” তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

প্রস্তাবিত চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। এর পরের ধাপে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলাদাভাবে ৬০ দিনের একটি আলোচনা শুরু হবে। 

খসড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই জলপথটি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে আটকে রাখা কোটি কোটি ডলারের ইরানি সম্পত্তি ফেরত দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হবে।