আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহু বছর ধরে আমেরিকার বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থার ভিত গড়েছেন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার ও সফটওয়্যার ডেভেলপাররা। সেখানে ঘর বেঁধে, সপরিবারে থিতু হয়ে অনেকেই ভেবেছিলেন প্রবাসের জীবন বুঝি নিশ্চিত হল। কিন্তু সাম্প্রতিক গণ ছাঁটাইয়ের ঘটনা আর একটি ইমেল রাতারাতি বদলে দিয়েছে সবকিছু।
মেটা, অ্যামাজন বা লিঙ্কডইনের মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর দিকে ঝুঁকতে গিয়ে দেদার কর্মী ছাঁটাই করছে। আর এই ছাঁটাইয়ের জেরে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ‘এইচ-ওয়ান বি’ ভিসাধারী ভারতীয় কর্মীরা।
কারণ, মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী চাকরি যাওয়ার পর মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে নতুন স্পনসর বা চাকরি না মিললে যাবতীয় সমস্ত কিছু গুটিয়ে দেশ ছাড়তে হবে।
যেখানে গোটা প্রযুক্তি বাজারে মন্দা, সেখানে মাত্র দু’মাসে নতুন চাকরি ও ভিসার ব্যবস্থা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রবাসীদের জন্য৷
এতদিন ধরে ভিজিটর ভিসায় সময় বাড়ানোর যে চেনা নিয়ম ছিল, এখন মার্কিন প্রশাসন সেখানেও নথিপত্র নিয়ে কড়া স্ক্রুটিনি শুরু করেছে।
বহু ভারতীয় বছরের পর বছর গ্রিন কার্ডের লাইনে আটকে আছেন। সন্তানদের স্কুল, বাড়ির ইএমআই- সব মিলিয়ে জীবন এখন খাদের কিনারায়।
পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর ছাঁটাই হওয়া ১ লক্ষ ১০ হাজারেরও বেশি কর্মীর বড় অংশই ভারতীয়। মেটার মতো সংস্থাগুলি ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি কোটি কোটি ডলার ঢালছে এআই প্রযুক্তিতে। ফলে সাধারণ কোডিং বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরি পাকাপাকিভাবে কমে যাওয়ার ভয় তৈরি হয়েছে।
যাঁদের গ্রিন কার্ড আছে, চাকরি গেলেও তাঁদের অন্তত দেশ ছাড়ার তাড়া নেই। কিন্তু এইচ-ওয়ান বি কর্মীদের মানসিক চাপ এখন প্রবল। পরিস্থিতির চাপে ব্লাইন্ড-এর সমীক্ষা জানাচ্ছে, প্রায় অর্ধেক ভারতীয় কর্মীই এখন চাকরি হারালে দেশে ফিরে আসার কথা ভাবছেন। অনেকের চোখ এখন কানাডা বা ইউরোপের দিকে।
মোটা অঙ্কের সেভারেন্স প্যাকেজ বা স্বাস্থ্যবিমা মিললেও, অনিশ্চয়তায় তাঁদের মানসিক ট্রমা কাটছে না। অর্থাৎ, লড়াইটা এখন আর শুধু ভালো বেতনের নয়, লড়াইটা হলো আমেরিকার মাটিতে নিজের সাজানো সংসারটাকে টিকিয়ে রাখার।















