আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার ইরানের তরফে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল বিশ্ববাসী। তবে অভিযোগ, এখনও হরমুজ অবরোধ করে রেখেছে আমেরিকার নৌবাহিনী। আর তাই শনিবার ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করল ইরানের শীর্ষ সেনাকর্তা খতম-আল-আনবিয়া। 


শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফও এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘‘আমেরিকা অবরোধ চালিয়ে গেলে হরমুজ় প্রণালীও খুলবে না।’’ ইরানের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট পথে জাহাজগুলিকে যাতায়াত করতে হবে বলেও জানান তিনি। সেই সঙ্গে দাবি করেন, ট্রাম্প একের পর এক মিথ্যা বলে চলেছেন। এক ঘণ্টায় তিনি ইরান সম্পর্কে সাতটি মিথ্যা দাবি করেছেন বলেও অভিযোগ তাঁর। ঠিক তার পরেই ইরানের জাতীয় টেলিভিশনে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড ক্রপস (আইআরজিসি) ঘোষণা করে, আমেরিকা তাদের কথা রাখেনি। ইরানের বন্দর থেকে আসা-যাওয়ার সময় এখনও জাহাজগুলিকে আটকাচ্ছে আমেরিকা। এমনকি অবাধে জলদস্যুতা এবং সামুদ্রিক চুরির কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই একরকম বাধ্য হয়েই হরমুজ প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে এনেছে ইরান। দেশের সেনাবাহিনীর হাতেই রয়েছে রাশ। 


আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসি-র বার্তা, "যতক্ষণ না আমেরিকার নৌ-অবরোধ হরমুজ প্রণালী থেকে সরছে, ততক্ষণ এই ব্যবস্থাই কার্যকর থাকবে।" আশঙ্কা, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াতের ক্ষেত্রে আইআরজিসি-কে আগের মতোই নির্ধারিত অর্থ জমা দিতে হবে। 


প্রসঙ্গত,  আগামী সোমবার পাকিস্তানে আমেরিকা এবং ইরানের প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে পারেন বলে জানা গেছে। তার মধ্যেই শুক্রবার সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল ইরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ইজরায়েল ও লেবাননের সংঘর্ষবিরতি যতদিন চলবে, ততদিন হরমুজ প্রণালীও খোলা থাকবে। এরপরই ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্টও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী হল বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। সংঘাত শুরুর আগে, বিশ্ববাজারের জন্য অপরিহার্য তেল ও সার বহনকারী প্রায় ১৩৮টি জাহাজ নিয়মিত এই প্রণালীটি অতিক্রম করত।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই পথে জাহাজের চলাচল বা ট্রাফিক ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ইরানের হুমকি ও হামলার কারণে এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল, গত মার্চ মাসে এই পথে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা ১০০-এর নীচে নেমে এসেছিল।