আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে বদলে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ, ব্যাপক কড়াকড়ি, গ্রেপ্তার ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে। এই অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পটভূমিতে মার্কিন প্রশাসন তাদের নাগরিকদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—“এখনই ইরান ত্যাগ করুন।”


ইরানে নিরাপত্তা বাড়ানোর অংশ হিসাবে সরকার রাস্তাঘাটে চেকপোস্ট বৃদ্ধি, যানবাহন চলাচলে বাধা, হঠাৎ রুট পরিবর্তন এবং পরিবহন সীমিত করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণও আরও কঠোর করা হয়েছে। মোবাইল ডেটা, ল্যান্ডলাইন ইন্টারনেট ও ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক—সব ক্ষেত্রই আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিদেশি নাগরিকদের খবরাখবর নেওয়া, যোগাযোগ রাখা বা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।


পরিস্থিতির অবনতির কারণে আকাশপথেও চাপ তৈরি হয়েছে। একাধিক এয়ারলাইন ইরানে ফ্লাইট কমিয়েছে, কেউ কেউ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করেছে। ফলে বিমানে করে দ্রুত দেশ ছাড়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় মার্কিন প্রশাসন বিকল্প পথ হিসেবে স্থল সীমান্ত দিয়ে তুরস্ক বা আর্মেনিয়ায় যাত্রার পরামর্শ দিয়েছে। 


মার্কিন নাগরিকদের প্রতি নির্দেশে বলা হয়েছে, “ইরান এখনই ত্যাগ করুন। এমন কোনও পরিকল্পার ওপর নির্ভর করবেন না, যেখানে মার্কিন সরকারের সরাসরি সহায়তার প্রয়োজন হবে।” অর্থাৎ জরুরি পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরাসরি উদ্ধার অভিযান চালাতে পারবে না। 


যারা আপাতত দেশ ছাড়তে সক্ষম নন, তাদের যথাসম্ভব নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। নিজ বাসস্থানের নিরাপদ কক্ষ বা নিকটবর্তী কোনও নিরাপদ জায়গা বেছে নিতে হবে। অন্তত কয়েকদিনের প্রয়োজনীয় খাদ্য, জল, ওষুধ, ব্যান্ডেজ, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসপত্র ও জরুরি যোগাযোগের উপকরণ রাখতে হবে।


এছাড়া বিক্ষোভ বা মিছিল এড়িয়ে চলা, পরিচয় প্রকাশ না করা, প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় না বের হওয়া ও নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান বা চেকপোস্টের ছবি না তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের বলা হচ্ছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় সংবাদ অনুসরণ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন।
যোগাযোগ ব্যবস্থার অস্থিরতার মধ্যেও ফোন চার্জ রাখা, বিকল্প পাওয়ার ব্যাঙ্ক রাখা এবং বন্ধু-পরিবারকে নিজের অবস্থা জানিয়ে যাওয়াও প্রয়োজনীয় বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে যোগাযোগই হতে পারে বেঁচে থাকার ও নিরাপদে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মাধ্যম।


সংক্ষেপে বলা যায়, ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সঙ্কট যে দ্রুত সমাধান হবে এমন ইঙ্গিত নেই। বরং ঝুঁকি প্রতিদিনই বাড়ছে। সেই কারণে মার্কিন প্রশাসনের বার্তা খুব স্পষ্ট: ঝুঁকি নেবেন না—অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করুন।