আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মধ্যেই ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এমন কিছু ভিডিও ও ছবি। সেখানে দেখা গিয়েছে, ইরানি মহিলারা দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের ছবি পুড়িয়ে সেই আগুনে সিগারেট ধরাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সহিংসতায় রূপ নেওয়া আন্দোলনে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের প্রশাসন ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকী, আন্তর্জাতিক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একাধিক ভিডিও। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন।
সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ইরানের মহিলারা বিশেষ করে তরুণীরা খামেনেইয়ে ছবি পুড়িয়ে তা দিয়ে সিগারেট ধরাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ইরানে মহিলাদের ধূমপান অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
একই সঙ্গে, দেশটিতে মহিলাদের প্রকাশ্যে ধূমপান বহু বছর ধরে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে নিষিদ্ধ হয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি নিষিদ্ধ কাজ একসঙ্গে প্রকাশ্যে করে দেখাচ্ছেন মহিলারা।
বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের প্রকাশ্য অবজ্ঞা দেখিয়ে মহিলারা রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও সামাজিক বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এই ধরনের প্রতিবাদ ২০২২ সালে পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বলেই মনে করা হচ্ছে।
হিজাব বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর তাঁর মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ‘সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ’ করে দেওয়ার উদ্দেশ্য চলতি বিক্ষোভ দমনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা।
সংবাদ সংস্থা এএফপি যাচাই করা ভিডিও মারফত জানা গিয়েছে, তেহরানের উত্তরের সাদাত আবাদ এলাকায় বাসিন্দাদের হাঁড়ি বাজিয়ে খামেনেইকে বিদ্রূপ করতে এবং স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
এমনকী, রাস্তায় চলাচল করা গাড়িগুলোও হর্ন বাজিয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আয়াতুল্লা খামেনেই আন্দোলনকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ ও ‘নাশকতাকারী’ আখ্যা দেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতৃত্ব ‘গভীর সংকটে’। তিনি আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় খামেনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ‘অহংকারী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ১৯৭৯ সালের আগে ইরান শাসন করা সাম্রাজ্যবাদী রাজবংশের মতোই ট্রাম্পের পরিণতিও ‘পতন’ হবে।
