আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাতের নাগালে এসেও কি ফসকে গেল শান্তি? ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা শান্তি বৈঠকের মাঝপথে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর একটি ফোনই কি সব ভেস্তে দিল? এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিল তেহরান।

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা বৈঠক করার পর কোনও সমাধান ছাড়াই বিদায় নিয়েছেন। তিনি শহর ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সমাজমাধ্যমে সরব হন। তাঁর দাবি, আলোচনার মাঝপথে নেতানিয়াহু ফোন করেন ভ্যান্সকে। আর সেই ফোন আসার পরেই আলোচনার মোড় ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক থেকে ঘুরে গিয়ে ইজরায়েলের স্বার্থের দিকে চলে যায়। 

আরাগচির খোঁচা, "আমেরিকা যুদ্ধে যা জিততে পারেনি, আলোচনার টেবিলে বসে তা ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল।" তেহরানের দাবি, তারা যথেষ্ট সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় এলেও আমেরিকার অনড় মনোভাবই সব শেষ করে দিল।

এই বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববাজারে অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে হওয়া দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরোতে আর মাত্র দিন নয়েক বাকি। ফলে ফের যুদ্ধের মেঘ জমতে শুরু করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেলের বাজারে।

প্রসঙ্গত, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলার। আলোচনার শুরুতে তা কমে ৯৫ ডলারে নামলেও, এখন তা ফের ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের কারণে মার্চ মাস থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ। পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান যে মোটা অঙ্কের কর দাবি করছে, তাকে বেআইনি বলছে আন্তর্জাতিক মহল।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, আমেরিকা অত্যন্ত কঠিন শর্ত চাপিয়ে দিয়েছিল। ওয়াশিংটন চেয়েছিল ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক। কিন্তু তেহরান তা মানতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অনেকটা একলা হয়ে পড়ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

স্পেন ও ইতালির মতো দেশ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের জমি বা আকাশপথ ব্যবহার করতে দেবে না। ন্যাটোর অনেক সদস্য দেশ এবং খোদ আরবের বন্ধু দেশগুলিও এই লড়াই থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর বদলে সংঘাতের ছায়া আরও দীর্ঘ হচ্ছে।