আজকাল ওয়েবডেস্ক: সমস্তরকম ধোঁয়াশা কাটিয়ে অবশেষে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যোগ দিতে পাকিস্তান যাচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ভ্যান্সের সঙ্গে থাকছেন ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।

রবিবার দু’টি সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন যে, ভ্যান্স এই বৈঠকে যাচ্ছেন না। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদলে মার্কিন প্রশাসন জানায়, ভ্যান্স পাক-সফরে যাবেনই। প্রেসিডেন্টের এই খামখেয়ালিপনায় বিভ্রান্তি ছড়ালেও হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিকের 'দায়সারা' মন্তব্য, “পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে।”

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ট্রাম্প নিজেই হয়তো পাকিস্তান যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিরাপত্তার খাতিরে প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সাধারণত একই জায়গায় এক সঙ্গে থাকেন না। ট্রাম্পের সফরের সম্ভাবনা তৈরি হওয়াতেই ভ্যান্সের যাওয়া নিয়ে এত নাটক। এদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তিনি নিজে পাকিস্তান যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভ্যান্সকে সম্ভবত তড়িঘড়ি দেশে ফিরতে হবে।

ইসলামাবাদে গত সপ্তাহের প্রথম দফার বৈঠক পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল। সেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ভ্যান্সের একটি তুলনা ঘিরে চরম বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে তিনি নিজের স্ত্রী ঊষা ভ্যান্সের ‘স্কাই ডাইভিং’-এর শখের সঙ্গে তুলনা করেন। ভ্যান্সের যুক্তি ছিল- অধিকার থাকলেই তা ব্যবহার করতে হবে এমন কোনও মানে নেই, কারণ তিনি চান না তাঁর স্ত্রী বিমান থেকে ঝাঁপ দিন। এই মন্তব্যের পর সমাজমাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। অনেকের প্রশ্ন, ভ্যান্স কি তবে নারী স্বাধীনতাকে খাটো করে দেখছেন?

অন্যদিকে ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগেই সমাধান খুঁজতে মরিয়া পাকিস্তান। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির বন্ধু দেশগুলির সঙ্গে মধ্যস্ততা চালাচ্ছেন। আবার, হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই দেশের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইরান জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানোয় মেজাজ হারিয়েছেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর হুঁশিয়ারি, “ইরান যদি কথা না শোনে, তবে ওদের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র আর সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ভদ্রতার দিন শেষ।”

ভ্যান্স ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধের বিরোধী হলেও প্রকাশ্য মঞ্চে ট্রাম্পের নীতিকেই সমর্থন করছেন। তবে গত সপ্তাহে এক সভায় তাঁকে ‘শিশুহত্যাকারী’ বলে কটাক্ষ করেন বিক্ষোভকারীরা। আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের মুখে পড়ে ভ্যান্সও কার্যত স্বীকার করেছেন যে, পশ্চিম এশিয়া নিয়ে তাঁদের নীতি অনেকেই পছন্দ করছেন না। এই উত্তপ্ত আবহে দ্বিতীয় দফার বৈঠক কতটা সফল হয়, নজর এখন সেদিকেই।