আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবশেষে সুড়ঙ্গের শেষে আলো। যুযুধান দুই দেশ ইরান ও আমেরিকা সব ধরনের লড়াই থামিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, লেবানন-সহ বিশ্বের যেখানেই এই দুই শক্তি বা তাদের জোট লড়াই করছে, সেখানেই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে।
দুই দেশের এই পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানিয়ে শাহবাজ বলেন, "আমি অত্যন্ত বিনম্রতার সঙ্গে জানাচ্ছি যে, শান্তি ফেরাতে দুই দেশই অসামান্য বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।"
তবে এই বিরতি কি স্থায়ী হবে? সেই জট খুলতেই এবার আসরে নামছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ১০ এপ্রিল, দুই দেশের প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদে ডাকা হয়েছে। সেখানে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্ত বিবাদ মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলবে। শাহবাজের আশা, এই ‘ইসলামাবাদ বৈঠক’ থেকেই স্থায়ী শান্তির পথ বেরোবে। আগামী দিনে আরও ভালো খবর আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, চরম হুঁশিয়ারির পর পিছিয়ে আসা ‘ঐতিহাসিক জয়’। এমনটাই দাবি ইরানের৷ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণ থেকে পিছিয়ে আসায় এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় একে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে নিজেদের ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরানের দাবি, তাদের দেওয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবে 'নীতিগতভাবে' সায় দিয়েছে ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের ঘোষণার পরই ইরানের ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ এক বিবৃতিতে জানায়, তেহরানের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করেছে আমেরিকা। ওয়াশিংটন তাদের হামলা স্থগিত রাখতে এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
ইরানের দাবি, “ইরানের বিশাল জয়। অপরাধী আমেরিকাকে ১০ দফার পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য করেছে।” তাদের দাবি অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় ইরানের ওপর হামলা না করার নিশ্চয়তা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া, সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে রাজি হয়েছে হোয়াইট হাউস।
















