আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের সঙ্গে আর যুদ্ধ বিরতির পথে হাঁটতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সংঘাতের চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের দাবি, “আগামী দু’দিন আপনাদের জন্য বেশ নাটকীয় কিছু ঘটতে চলেছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, সংঘাত মেটানোর দু’টি রাস্তা খোলা আছে- হয় আলোচনা, নয়তো সামরিক শক্তির প্রয়োগ। তবে তিনি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চাইছেন যাতে ইরান নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। ট্রাম্পের দাবি, “ওখানকার কট্টরপন্থীদের আমরা সরিয়ে দিয়েছি। এখন আর তাঁরা নেই।” এমনকী নিজের গুরুত্ব বোঝাতে ট্রাম্প এমনও বলেন যে, তিনি প্রেসিডেন্ট না থাকলে গোটা বিশ্ব আজ ধ্বংস হয়ে যেত।
একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, জট কাটাতে চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আবার বৈঠকে বসতে পারে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিরা। যদিও দিনক্ষণ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে পাকিস্তান সরকার দু’পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে। আগামী শুক্র থেকে রবিবারের মধ্যে এই বৈঠক হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহেও দুই দেশ ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেছিল। ১৯৭৯ সালের পর এই প্রথম দুই দেশের এত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হলেন। আমেরিকার পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফ সেই আলোচনার নেতৃত্ব দেন।
মূলত হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েই দু’দেশের দড়ি টানাটানি চলছে। ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা শেষ প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন। এখন বল ইরানের কোর্টে।
প্রসঙ্গত, 'শর্ত মানো, অথবা অশান্তি ভোগ করো'। আমেরিকার স্পষ্ট দাবি। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে জমে থাকা বরফ কি তবে গলতে চলেছে? এ বার এমনই ইঙ্গিত মিলছে। আরেক দফা পাকিস্তানের মাটিতে মুখোমুখি বসতে পারে দুই শত্রু দেশ।
এ বার আলোচনার টেবিলে ফেরার আগে তেহরানের সামনে দু’টি কঠিন শর্ত ঝুলিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দু’দিনের মধ্যেই নতুন করে কথা শুরু হতে পারে। তাঁর দাবি, 'সঠিক জায়গা' থেকে তাঁর কাছে প্রস্তাব এসেছে এবং তাঁরা এখন সমাধানে পৌঁছতে আগ্রহী।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আলোচনার আগে আমেরিকা মূলত দু’টি বিষয়ে অনড়-
এক, পারস্য উপসাগরের অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কোনওভাবেই আটকানো যাবে না। তাদের সাফ কথা- ইরান যদি অন্যের জাহাজ আটকায়, তবে ইরানের কোনও জাহাজও ওই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।
দুই, ইরানের যে প্রতিনিধি দল আলোচনায় আসবে, তাদের হাতে যেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক শাখা 'রেভোলিউশনারি গার্ডস'-এর সবুজ সংকেত ছাড়া কোনও আলোচনাতেই বসতে চাইছে না আমেরিকা।















