আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করেই জাহাজ চলাচল! পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী পার হলো ইরানের একটি বিশাল তৈলবাহী জাহাজ। আমেরিকার জারি করা কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক চাপকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই তেহরান এই পদক্ষেপ করেছে বলে দাবি ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থার।

সাধারণত মার্কিন নজরদারি এড়াতে অনেক সময় ইরানি জাহাজগুলি নিজেদের অবস্থান জানানোর যন্ত্র বা ‘পজিশনিং ডিভাইস’ বন্ধ রাখে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে ওই বিশাল জাহাজটি কোনওরকম লুকোছাপা না করেই, যন্ত্র চালু রেখে প্রকাশ্য দিবালোকে জলপথ পাড়ি দিয়েছে। তেহরানের দাবি, আমেরিকার ‘ভয় দেখানো’র রাজনীতির মুখে এটি একটি বড় জয়।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী অবশ্য দাবি করেছে যে, ইরানি বন্দরগুলির ওপর তাদের অবরোধ এখনও কঠোরভাবে কার্যকর রয়েছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবরোধ শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনও জাহাজই নিয়ম ভেঙে বেরোতে পারেনি, বরং ছ’টি বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন সেনার নির্দেশে গতিপথ বদলে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে একটি জাহাজ পুনরায় ঘুরে গিয়ে প্রণালীটি পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।

এক নজরে গোটা পরিস্থিতি ও বর্তমান চিত্র- 

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে অশান্তি বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়বে৷  

যুদ্ধের আবহেও কিন্তু পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দু’দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে দু’পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা হতে পারে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই আলোচনার বিষয়ে আশাবাদী।

সাত সপ্তাহে পা দিয়েছে এই যুদ্ধ। এর জেরে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্র অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়েছে, লেবাননে মারা গিয়েছেন ২,১০০ জনের বেশি। এ ছাড়া ইজরায়েল, আরব দেশ এবং মার্কিন বাহিনীর বেশ কিছু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।

 

একদিকে যেমন আলোচনার টেবিলে শান্তি ফেরানোর অপেক্ষা, তেমনই অন্যদিকে সমুদ্রপথে দাপট বজায় রাখার লড়াই- এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে এখন উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে পশ্চিম এশিয়া।