আজকাল ওয়েবডেস্ক: তেহরানকে চাপে রাখতে সমুদ্রপথে কড়া পাহারা বসিয়েছিল আমেরিকা। সোমবার থেকে শুরু হয় এই অবরোধ। মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রথম দু’দিনেই ইরানের ১০টি জাহাজকে মাঝসমুদ্রে আটকে দিয়েছে ওয়াশিংটন। 

বুধবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধের পর থেকে একটি জাহাজও ইরানের বন্দর ছেড়ে বেরোতে পারেনি। প্রথমে ন’টি জাহাজ আটকানোর কথা জানানো হলেও, জানা গিয়েছে, পরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আরও একটি জাহাজকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেয়।

অন্য দিকে, আমেরিকার এই ‘দাদাগিরি’ মুখ বুজে সহ্য করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাইয়ের হুঁশিয়ারি, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আমেরিকা যদি ‘পুলিশি’ নজরদারি চালিয়ে যায়, তবে মার্কিন জাহাজে হামলা চালাবে ইরান। রেভোলিউশনারি গার্ডসের প্রাক্তন এই প্রধানের দাবি, এই পথে আমেরিকার খবরদারি ইরান কোনওভাবেই মেনে নেবে না।

চরম উত্তেজনার এই আবহে দুই দেশের মধ্যে শান্তি ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে পাকিস্তান। পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি দল ইরানি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। লক্ষ্য একটাই- আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ফের আলাপ-আলোচনা শুরু করা। 

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের তরফেও এই বিষয়ে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্র মারফত খবর পাওয়া গিয়েছে, সব ঠিক থাকলে, খুব শীঘ্রই ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে বুধবার, আরও বড় চমক। বড় সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আর কখনও বন্ধ হবেনা হরমুজ৷ এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যালে একটি নতুন পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার’ সিদ্ধান্তে চীন ‘খুবই খুশি’। ট্রাম্পের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আর কখনও বন্ধ হবে না। সারা বিশ্বের পাশাপাশি চীনের স্বার্থেই তিনি এই পদক্ষেপ করেছেন।

একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বেজিং ইরানকে আর কোনও অস্ত্র দেবে না বলে তাঁকে কথা দিয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর এবং ট্রাম্পের দাবি এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছে। এদিকে জানা গিয়েছে, তেহরানকে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার তোড়জোড় চালাচ্ছে বেজিং। অন্য এক সংবাদমাধ্যমের দাবি, মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হদিস পেতে এবং সেগুলিকে নিশানা করতে চীনের স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে ইরান।

নিজের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিচ্ছি দেখে চীন খুব খুশি হয়েছে। আমি এটা ওদের জন্য এবং গোটা বিশ্বের জন্যই করছি। এই পরিস্থিতি আর কখনও তৈরি হবে না। ওরা ইরানকে অস্ত্র না দিতে রাজি হয়েছে।”