আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে। অথচ এই বিরতি কতদিন দীর্ঘস্থায়ী হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছেনা৷ লেবাননে সামরিক অভিযান থামানোর কোনও লক্ষণ নেই ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর গলায়। বরং হিজবুল্লা আক্রমণ আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলাকালীন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, "লেবাননে আমাদের অভিযান জারি রাখতে হবে।" ইজরায়েল সরকারিভাবে এই আলোচনার টেবিলে না থাকলেও, হামলা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই তিনি। 

এর কিছু পরেই লেবাননের প্রায় ১০০টি জায়গায় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জোরালো হামলা চালায় ইজরায়েলি ফৌজ। পাল্টা জবাবে ইরানও ওই অঞ্চলে রকেট ও ড্রোন হানা শুরু করলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কার্যত রুখে যায়।

নেতানিয়াহুর দাবি, উত্তর ইজরায়েলের নিরাপত্তার পথে প্রধান কাঁটা এই হিজবুল্লা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি স্পষ্ট জানান, "সম্পূর্ণ শক্তি ও নিঁখুত নিশানা করে হিজবুল্লার ডেরায় আঘাত হানছে ইজরায়েল। শান্তি না ফেরা পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।" 

অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লার অস্ত্রভাণ্ডার ও যাতায়াতের পথগুলো গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করেছে ইজরায়েলি সেনা। লেবানন প্রশাসনের দাবি, শেষ দফার হামলায় ৩০০-র বেশি প্রাণহানি হয়েছে। 

উল্লেখ্য, যুদ্ধের ময়দানে দাপট দেখালেও দেশের অন্দরে সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, যুদ্ধের আসল লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি নেতানিয়াহু। 

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের কথায়, সরকার সাধারণকে 'বিভ্রান্ত' করছে। ইরানের পরমাণু ভাণ্ডার ধ্বংস করার মতো বড় লক্ষ্যগুলো এখনও অধরা। বিরোধী দলনেতা ইয়াইর লাপিদও বিঁধেছেন নেতানিয়াহুকে। তাঁর দাবি, স্রেফ মিথ্যে দিয়ে রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী।

নেতানিয়াহু অবশ্য একে ইরান ও তার সঙ্গী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর লড়াই হিসেবেই দেখছেন। তাঁর হুঙ্কার, "ইরান এখন আগের চেয়ে দুর্বল, আর ইজরায়েল অনেক বেশি শক্তিশালী।" কিন্তু এত সামরিক অভিযানের পর স্থায়ী সমাধান ঠিক কী, সেই প্রশ্নেই এখন উত্তাল ইজরায়েল। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক জল্পনার মাঝেই নেতানিয়াহু জানিয়ে দিলেন, "প্রয়োজন পড়লে যেকোনও মুহূর্তে আমরা লড়াইয়ে ফিরতে প্রস্তুত। আমাদেরও আঙুল কিন্তু ট্রিগারেই রয়েছে।"