আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তানবুলে ইজরায়েলি দূতাবাসের সামনে চরম উত্তেজনা। দুষ্কৃতীদের সঙ্গে পুলিশের গুলির লড়াইয়ে দুই পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। পাল্টা পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে এক হামলাকারীও। 

নিহতের সংখ্যা নিয়ে দিনভর সংবাদসংস্থাগুলির মধ্যে চাপানউতোর চলেছে। কেউ কেউ তিনজনের মৃত্যুর দাবি করেছে। পরে জানা গিয়েছে, মৃত্যু হয়েছে একজনের।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, চারিদিকে গুলির শব্দ আর মানুষের চিৎকার। প্রাণভয়ে ছুটছেন সাধারণ মানুষ। এক পুলিশকর্মীকেও দেখা যায় বন্দুক উঁচিয়ে আড়াল নিতে। 

ইস্তানবুলের গভর্নরের দাবি, রাইফেল ও পিস্তল নিয়ে হামলা চালিয়েছিল আততায়ীরা। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর এটাই যে, হামলার সময় দূতাবাসের ভেতরে কোনও ইজরায়েলি আধিকারিক ছিলেন না।

মধ্য এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের এই সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই ঘটনা বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে যুদ্ধ থামানোর যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, তার মধ্যেই এই হামলা ঘটল। তুরস্কের প্রশাসনের দাবি, হামলাকারীরা পাশের শহর ইজমুত থেকে গাড়ি ভাড়া করে এসেছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের সঙ্গে একটি ধর্মীয় উগ্রপন্থী সংগঠনের যোগ মিলেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, তেহরান নিজেদের অবস্থানে অনড়। আমেরিকার দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তারা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে দু’পক্ষের দড়ি টানাটানি এখন তুঙ্গে। বিশ্বের তেলের বাজারের একটা বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। এই পথ বন্ধ থাকায় ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সঙ্কট।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই ইরান, ইজরায়েল ও লেবানন মিলিয়ে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ গিয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের ওপর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান কথা না শুনলে তিনি সে দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেবেন। রাষ্ট্রপুঞ্জ যদিও সতর্ক করেছে যে, অসামরিক জায়গায় হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন বিরোধী, কিন্তু ট্রাম্প তাতে কান দিতে নারাজ।

অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা হরমুজ প্রণালী খোলার তিনটি রাস্তার কথা বলছেন।

দু’পক্ষ আলোচনার টেবিলে বসে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রেও জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে। ভয় রয়েছে, ইরান হয়তো ভবিষ্যতে তেলের ওপর বাড়তি কর চাপাবে।

আমেরিকা নিজেই গায়ের জোরে জলপথ পরিষ্কার করতে পারে। জাহাজ দিয়ে তেলের ট্যাঙ্কার পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তবে এতে যুদ্ধ আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

বৈঠক করে একটি যৌথ বাহিনী গড়ে তুলে এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ব্রিটেন বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো এখানে ভূমিকা নিতে পারে।

যদি কোনওভাবে এই জলপথ খুলেও যায়, পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধায় ইরান যখন-তখন বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপাকে ফেলার ক্ষমতা রাখে। ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। চিন্তায় বিশ্ববাজার।