আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে শান্তির ক্রমাগত চেষ্টা, অন্যদিকে বারুদে ঘি ঢালা- অদ্ভুত এক পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান। একদিকে তারা চেষ্টা করছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি ফেরাতে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে এক ‘গোপন’ সামরিক চুক্তি ইসলামাবাদকে যুদ্ধের ময়দানে টেনে নামাতে চাইছে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানের একঝাঁক যুদ্ধবিমান পৌঁছেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, পাকিস্তান আসলে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে অংশ নিচ্ছে। অথচ জানা গিয়েছে, যে সময়ে এই যুদ্ধবিমানগুলো সৌদিতে নামল, ঠিক সেই সময়েই ইসলামাবাদে বসে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনা চালাচ্ছিলেন। সেই আলোচনা ভেস্তে গেলেও ২১ এপ্রিলের আগে ফের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, শান্তি আলোচনা যদি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, তবে কি সৌদি আরবের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে লড়তে হবে পাকিস্তানকে?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে, ২০২৫ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান যে নতুন চুক্তি সই করেছে, তাতেই লুকিয়ে রয়েছে আসল 'বিপদ'।
চুক্তির শর্তগুলো মোটামুটি এই রকম-
সৌদি আরব চাইলে যে কোনও সময় পাকিস্তানকে সেনা পাঠাতে বলতে পারে। পাকিস্তান তা মানতে বাধ্য। কিন্তু পাকিস্তানের বিপদে সৌদি আরব একইভাবে সেনা পাঠাবে কি না, তার কোনও স্পষ্ট নিশ্চয়তা চুক্তিতে নেই।
সৌদির স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তানকে হয়তো তাদের লক্ষ্যের বাইরে গিয়েও লড়তে হতে পারে।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এই চুক্তিতে সই করতে চাননি। তিনি ভয় পাচ্ছিলেন, এতে পাকিস্তান বিদেশের যুদ্ধে 'অকারণ' জড়িয়ে পড়বে।
পাকিস্তানের এই বিপাকে পড়ার বড় কারণ হলো টাকা। দেশটির নড়বড়ে অর্থনীতিকে একপ্রকার টিকিয়ে রেখেছে সৌদি আরবের বিপুল অঙ্কের ঋণ। বর্তমানে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে সৌদির প্রায় ৫০০ কোটি ডলার জমা আছে। ফলে রিয়াধের দাবি উপেক্ষা করা ইসলামাবাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। পাকিস্তানের ভেতর বড় একটি অংশ ইরান-ঘনিষ্ঠ বা শিয়া মতাবলম্বী। যদি পাকিস্তান সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে, তবে দেশের ভেতরেই দাঙ্গা তৈরি হতে পারে। ফলত, বর্তমানে চাপে পাকিস্তান।















