আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে আগামী বুধবার, ২২ এপ্রিল। কিন্তু সেই মেয়াদ বাড়ানোর কোনও লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক হওয়ার কথা। এদিকে ইরান তাতে যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, তেহরান ওই বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইরানি সংবাদসংস্থা ‘ইরনা’র খবর অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের ‘অবাস্তব দাবি’ এবং ‘বারবার অবস্থান বদল’-এর কারণেই এই অনীহা। তেহরানের স্পষ্ট অভিযোগ, আমেরিকা একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে সমুদ্রে অবরোধ জারি রেখেছে- যা আদতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অপমান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সোমবারই তাঁর প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু দুই পক্ষই এখন একে অপরের দিকে আঙুল তুলতে ব্যস্ত। হরমুজ প্রণালী নিয়ে অচলাবস্থাও কাটেনি। মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ফের বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের পরমাণু অধিকারের প্রশ্নে ট্রাম্পকে একহাত নিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনও যুক্তি ছাড়াই একটি জাতির অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার ট্রাম্পের নেই।

রবিবারও যুদ্ধবিরতি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। একদিকে ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, আমেরিকার দেওয়া প্রস্তাব যেন ইরান ‘মেনে নেয়’, অন্যথায় চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের। অন্যদিকে ইরানের ‘তাসনিম’ সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, নৌ-অবরোধ না উঠলে তেহরান কোনও প্রতিনিধি দল পাঠাবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তাতে নয়া মোড় আসে শনিবার। হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা মোজতবা খামেনেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শত্রুপক্ষকে যোগ্য জবাব দিতে তৈরি তাঁদের নৌবাহিনী। ট্রাম্প অবশ্য এই পদক্ষেপকে ‘ব্ল্যাকমেল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে লেবানন সীমান্তেও অশান্তি কমছে না। ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও, রিপোর্ট বলছে, রবিবার দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। ইজরায়েলি সেনার দাবি, তারা হিজবুল্লা যোদ্ধাদের নিশানা করেছে। এতে যুদ্ধবিরতির নিয়ম ভাঙা হয়নি।