আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ায় উত্তেজনার মাত্রা বাড়ল। হরমুজ দ্বীপের কাছে‘শত্রুপক্ষের’ এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করল ইরান। ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
‘তেহরান টাইমস’-এর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্ট অনুযায়ী, বিমানটিকে ইরানের দক্ষিণ উপকূলের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’-এর কাছে ধ্বংস করা হয়। ওই প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি ‘শত্রুতাপূর্ণ অনুপ্রবেশের’ বিরুদ্ধে সফল অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এফ-১৫ ধ্বংসের সমর্থনে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, একটি ইনফ্রারেড ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে কোনও একটি লক্ষ্যবস্তুকে অনুসরণ করা হচ্ছে। এরপরই সেখানে তীব্র আলোর ঝলকানি- যা লক্ষ্যবস্তুটিকে সফলভাবে ধ্বংস বা আঘাত করারই ইঙ্গিত। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের দাবির সত্যতা যাচাই করা হয়নি। তাছাড়া আমেরিকা কিংবা ইজরায়েল - কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কোনও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার চরম হুঁশিয়ারি জারি করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি ওই প্রণালী দিয়ে চলাচলের সুযোগ ফের উন্মুক্ত না করা হয়, তবে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে, বিশেষ করে দেশটির বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানবেন এবং সেগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেবেন।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই অঞ্চলে যেকোনও ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা সংঘাত দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে আকাশপথে সামরিক তৎপরতা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ঘটনা ঘটল। সাম্প্রতি এই অঞ্চলের একাধিক দেশ, আকাশপথে ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, এই ধরনের ঘটনার জেরে যদি কোনও পক্ষ পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে তা শেষ পর্যন্ত একটি ব্যাপক ও সর্বাত্মক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
