আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইসলামাবাদের মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ। শুক্রবারের এই বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৬৯। আহতের সংখ্যা অন্তত ১৭০।
এই ঘটনার পর আফগানিস্তান এবং ভারতের দিকে আঙুল তুলেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ দাবি করেছেন, আত্মঘাতী জঙ্গির আফগানিস্তানে যাতায়াত ছিল। এমনকি, এই বিস্ফোরণে ভারতের হাতও রয়েছে বলে তাঁর দাবি। শুক্রবার রাতেই এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে দিল্লি। পাকিস্তানের দাবি উড়িয়ে সে দেশের সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।
পাক মন্ত্রী দাবি করেছিলেন, আত্মঘাতী জঙ্গি আফগনিস্তান থেকে একাধিক বার পাকিস্তানে যাতায়াত করেছিল। তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘ভারত এবং তালিবানের মধ্যে যোগসূত্র প্রকাশ্যে আসছে। ওই জঙ্গিকে নিরাপত্তারক্ষী বাধা দিয়েছিলেন। তখনই তিনি গুলি চালাতে শুরু করেন এবং মসজিদে প্রার্থনাকারীদের শেষ লাইনে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরণ ঘটান।’ এর পরেই ভারতকে নিশানা করে আসিফ দাবি করেন, ভারতের নাকি সরাসরি যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই!
এরপরই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে শুক্রবার রাতে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘ইসলামাবাদের মসজিদে বিস্ফোরণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রাণহানিতে সমবেদনা জানাচ্ছি। কিন্তু এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, পাকিস্তান এই সমস্যাকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের মাটিতে জন্ম নেওয়া দুষ্কৃতীদের জন্য অন্যদের দোষারোপ করছে। ভারত এই ধরনের যে কোনও অভিযোগ খারিজ করছে। এগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
পাক মন্ত্রীর দাবি উড়িয়ে দিয়েছে আফগানিস্তানও। এই ধরনের দাবিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য করে তালিবান সরকার বলেছে, উপযুক্ত তদন্ত না করে ও ভাল করে খতিয়ে না দেখেই যুক্তিহীন ও ভিত্তিহীনভাবে অন্যের উপর দায় চাপাতে চাইছে পাকিস্তান। এমনকী তালিবান সরকার এই প্রশ্নও তুলেছে, যদি হামলার পরমুহূর্তেই পাকিস্তান সরকার জেনে ফেলে হামলাকারীর পরিচয় এবং গতিবিধি, তবে হামলাটি তারা কেন ঠেকাতে পারল না?
প্রসঙ্গত, ইসলামাবাদের ইমামবাড়া শিয়া মসজিদে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নমাজের সময় বিস্ফোরণ ঘটে। ‘সুইসাইড ভেস্ট’ পরে মসজিদে ঢুকে পড়েছিল আত্মঘাতী ওই জঙ্গি।
