আজকাল ওয়েবডেস্ক: নামিবিয়ার ওহাংওয়েনা অঞ্চলের সীমান্ত শহর ওশিকাঙ্গোতে এক মর্মান্তিক ও অস্বাভাবিক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রাতের বেলায় যৌন সংসর্গের সময় হঠাৎ 'বন্য' হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় এক ২৭ বছর বয়সী যুবকের। ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে আনন্দের মুহূর্ত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রূপ নেয় আতঙ্কে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে যুবকটি তাঁর সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটাচ্ছিলেন। আচমকাই তিনি একটি অস্বাভাবিক যৌন ক্রিয়া শুরু  করেন এবং তারপর সম্পূর্ণ নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তাঁর সঙ্গী সঙ্গে সঙ্গে জরুরি পরিষেবা ও পুলিশকে ফোন করেন। রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।

ওশিকাঙ্গো থানার পুলিশ আধিকারিকরা এসে দেখেন, বিছানার উপর যুবকটি অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তিনি আধা নগ্ন ছিলেন এবং কন্ডোম পরা অবস্থায় ছিলেন। শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন, রক্তক্ষরণ বা হিংসার চিহ্ন  পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, এটি অস্বাভাবিক হলেও আপাতদৃষ্টিতে প্রাকৃতিক মৃত্যু বলেই মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী যুবকের সঙ্গী পুলিশকে জানান, “সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। হঠাৎই ও নিতম্বে নাক ডুবিয়ে দিল উত্তেজনায় তারপর  অদ্ভুত শব্দ করল এবং তারপর আর নড়াচড়া করল না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই মহিলা অত্যন্ত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং বারবার একই কথা বলছিলেন—“আনন্দ থেকে আতঙ্কে যেতে এক মুহূর্তও লাগেনি।”

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন সংসর্গের সময় মৃত্যু খুবই বিরল ঘটনা, তবে একেবারে অসম্ভব নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর পেছনে থাকে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (Sudden Cardiac Death) বা অজানা হৃদরোগ। বিশেষ করে যদি কারও জন্মগত হৃদ্‌সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ বা পূর্বে ধরা না পড়া কার্ডিয়াক অসুখ থাকে, তাহলে তীব্র শারীরিক উত্তেজনা বা পরিশ্রম মৃত্যুঝুঁকি বাড়াতে পারে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যৌন কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত আকস্মিক মৃত্যুর সংখ্যা মোট আকস্মিক মৃত্যুর তুলনায় খুবই কম। সাধারণত মধ্যবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা বেশি দেখা যায়, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না—বিশেষত যদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা আগে থেকে নির্ণীত না হয়।

এই ঘটনাকে ঘিরে ওশিকাঙ্গো এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে। ততদিন পর্যন্ত ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক কিন্তু প্রাকৃতিক মৃত্যু হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

একদিকে ব্যক্তিগত পরিসরে ঘটে যাওয়া এই ট্র্যাজেডি যেমন মানবিকভাবে হৃদয়বিদারক, তেমনই এটি আবারও মনে করিয়ে দেয়—নীরবে থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকি কখন যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, তা বলা যায় না।